আপনিও হতে পারেন ‘করোনানাশক’!

মোহাম্মদ আবদুল অদুদ : আমি বিশেষজ্ঞ নই। তবে প্রতিনিয়ত বিশেষজ্ঞদের কথা শুনে কিছু অভিজ্ঞতা হয়েছে, যা শেয়ার করার লক্ষেই মূলত এ লেখা। লেখার মূলকথা হলো: কোভিড-১৯ বা করোনাভাইরাসের টিকা আবিস্কার না হওয়া পর্যন্ত আমি বা আপনি কিভাবে হতে পারেন করোনানাশক। এমন প্রশ্ন থাকতেই পারে। উত্তরে বলব, সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার উপায় জানানো এবং বৈরী পরিবেশে কিভাবে টিকে থাকতে হয়, এমন তথ্যাবলী ছড়িয়ে দিতে পারেন আপনার চারপাশের মানুষের মধ্যে। করোনা টেস্টে রিপোর্ট পজিটিভ হলেও অনেক মানুষ সুস্থ হয়েছেন, এই সত্যটিই বেশি বেশি উচ্চারণ করে মানুষের মনে আশার সঞ্চার করতে হবে।

মানুষ যেন নার্ভাস না হন, তাদেরকে সেই মানসিক শক্তি সরবরাহ করতে হবে আপনাকেই। সবসময় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকা, পরিমিত গরম পানি পান, ভিটামিন সি গ্রহণসমৃদ্ধ খাবার যেমন: লেবু, মাল্টাসহ নানা ফল, ভিটামিন ডি গ্রহণে সকালে কিছুসময় সূর্য়ের তাপ গ্রহণ, নিয়মিত ঘুম, গোসল, ব্যায়াম করা, ভাপ নেয়া, সঠিকভাবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির উপায় জানানোর উপর গুরুত্ব দিয়ে পরিচিতদের তথ্যগুলো বেশি বেশি শেয়ার করা দরকার। এক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য বিষয়ক নির্দেশনা পালনে উদ্বুদ্ধ করা আরো বেশি দরকার।

দেখা যায়, কারো বাসার কাছে একজনের রিপোর্ট পজিটিভ আসলে গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কেউ কেউ মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, এমন কিছু করা যাবে না। বরং তার বিপরীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কী পোস্ট করলে মানুষের মধ্যে সাহসিকতা তৈরি হবে, তারা মানসিকভাবে প্রাণবন্ত থাকবে তা চিন্তা করে কনটেন্ট ঠিক করে পোস্ট করুন এবং এভাবে আপনিও হতে পারেন ‘করোনানাশক’।

মুসলিম হিসেবে আমরা বিশ্বাস করি যে, করোনা মহামারি মহান আল্লাহর পথে ফিরে আসার জন্য একটি সতর্কবার্তা। অনেক মানুষ সেটা উপলব্ধি করেছেনও।আপনি জানেন, খোদ আমেরিকায়ও ক্রাইম কমে গিয়েছে, এটা তার লক্ষণ। আল্লাহর পথে পরিপূর্ণভাবে ফিরে আসার সময় এটা। জাহান্নামের আগুন থেকে নিজে বাঁচতে ও আহল বা পরিবার-পরিজনকে বাঁচাতে মহান আল্লাহ হুকুম করেছেন আমাদেরকে। আমরা নিজেকে ও অন্যজনকে করোনা ভুলিয়ে রাখতে মহান আল্লাহর নিদর্শনগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করতে পারি, যেমন অত্যন্ত সুনিপুঁণভাবে তা তুলে ধরছেন বাংলাদেশ সরকারের হজ কাউন্সিলর মুহাম্মাদ মাকসুদুর রহমান।

যার যে আর্থিক সক্ষমতা রয়েছে, তা নিয়েই বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এখনই সময়। এক্ষেত্রে কাছের মানুষগুলোর খবর নিতে হবে আগে। চাপ না নিয়েও কিছু কাজ করা যায় এই বিপদে পড়া মানুষগুলোর জন্য। একটি কথা না বললেই নয়, ফেসবুকে কোথাও থেকে কপি করে তথ্য আপডেটের নামে ভুল, আংশিক এবং অপ্রয়োজনীয় তথ্য না দেয়াই ভাল। ‘মনে হয় এমন’ ধাঁচের তথ্য না দেয়াই অধিকতর নিরাপদ। কোথা থেকে নিয়েছেন, সেই প্রশ্ন না করে মানুষ তখন আপনাকেই ভুল বুঝবেন। সম্ভব হলে গবেষণা থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি নির্ভরযোগ্য সংবাদ/প্রতিবেদন শেয়ার করুন। আর এভাবে আপনিও আপনার সমাজের জন্য হয়ে উঠতে পারেন একজন আদর্শ ‘করোনানাশক’।
লেখক : সাংবাদিক ও কলামনিস্ট