বাড়তি অর্থ আদায়ের অভিযোগ: নারায়ণগঞ্জ ল্যাবএইডের নমুনা সংগ্রহ স্থগিত

করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহের জন্য সরকারি বুথ ব্যবহার করে নিজেদের ইচ্ছেমতো ফি আদায় করে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে বেসরকারি হাসপাতাল ল্যাবএইড, নারায়ণগঞ্জ শাখার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে নমুনা সংগ্রহ স্থগিত করেছে জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ

জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ সূত্রে জানা যায়, নগরের কালীরবাজার মোড় এলাকায় অবস্থিত নবনির্মিত সিজিএম (চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট ভবন) ভবনের নিচ তলায় করোনাভাইরাস সংক্রমণের উপসর্গ থাকা রোগীদের নমুনা সংগ্রহের জন্য একটি বুথ রয়েছে। গত ১ জুলাই থেকে সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী সেখানে দুইশ’ টাকা ফি নিয়ে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। জেলা স্বাস্থ্যবিভাগের লোকবল কম থাকায় প্রতিটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে সরকারিভাবে নমুনা সংগ্রহের জন্য একজন করে কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়।

সূত্র আরও জানায়, দায়িত্ব অনুসারে সিজিএম ভবনে নমুনা সংগ্রহের দায়িত্ব পান ল্যাবএইড নারায়ণগঞ্জ শাখার টেকনিশিয়ান মো. জনি। কিন্তু তিনি সরকারি ফি’র চেয়ে বেশি অর্থ নিয়ে নমুনা সংগ্রহ করছিলেন। সম্প্রতি এক রোগীর কাছ থেকে বাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহের জন্য সাড়ে ৪ হাজার টাকা ফি নিয়ে সরকারি নমুনা সংগ্রহ বুথে ডেকে এনে নমুনা সংগ্রহ করেন অভিযুক্ত জনি।

ভুক্তভোগী রোগী জাহিদুল ইসলাম জানান, “করোনাভাইরাস সংক্রমণের উপসর্গ থাকায় সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাং রোড থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকার বিনিময়ে নমুনা দিতে এসেছেন। ল্যাবএইড থেকে তাকে এখানে এসে নমুনা দিতে অনুরোধ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে বলা হয়েছে এটিও তাদের নমুনা সংগ্রহের বুথ।”

ল্যাবএইডের অভিযুক্ত টেকনিশিয়ান জনি জানান, “বৃষ্টির কারণে আমরা রোগীর বাসায় যেতে পারিনি। তাই তাকে বুথে আসতে বলেছি। সরকারি বুথে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের রোগিদের নমুনা সংগ্রহের কোন অনুমতি রয়েছে কিনা জানতে চাইলে জনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।”

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সাজর্ন ইমতিয়াজ আহমেদ ঢাকা গণমাধ্যমকে জানায় , “বেসরকারিভাবে নির্ধারিত ফি আদায় করে সরকারি বুথে নমুনা সংগ্রহ করে আসছিলো ল্যাবএইডের এক কর্মচারি। আমরা এরকম কোনো নির্দেশনা দেইনি কাউকে। লোকবল কম থাকায় আমরা বেসরকারি ল্যাবগুলো থেকে লোক নিয়েছি। সেখানে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে সরকারি সরঞ্জাম ব্যবহার করে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। এটা অবশ্যই অপরাধ।

তবে এবেপারে  ”ল্যাবএইড নারায়ণগঞ্জ শাখার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, “প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট করার অভিযোগে দুই কর্মচারিকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।”