একটু আলো কমলেই খেলা বন্ধ হবে কেন?

1

ইংল্যান্ড-পাকিস্তানের সাউদাম্পটন টেস্ট দেখে হয়তো দুই সাবেক অধিনায়ক নাসের হুসেইন ও মাইক আথারটন তাচ্ছিল্যের হাসি দিচ্ছিলেন। ইংল্যান্ডের ব্যাটিং কোচ গ্রাহাম থর্প, পাকিস্তানের বোলিং কোচ ওয়াকার ইউনুসও হয়তো অতীতে ফিরে গিয়েছিলেন। এই চারজনই ২০ বছর আগে করাচিতে সেই বিখ্যাত ‘অন্ধকার টেস্ট’ খেলেছিলেন।

করাচিতে সেদিন বিকেল গড়াতেই পাকিস্তান ড্র’র জন্য সময়ক্ষেপণ শুরু করে। আম্পায়ার স্টিভ বাকনর পাকিস্তানের চালাকি বুঝেছিলেন। তাঁরা ইংল্যান্ড না জেতা পর্যন্ত খেলা চালিয়ে যান তিনি। গ্রাহাম থর্প যখন ইংল্যান্ডকে জিতিয়ে দিলেন স্টেডিয়ামে ‘ঘুটঘুটে’ অন্ধকার।

সাউদাম্পটনে ইংল্যান্ড-পাকিস্তানের দ্বিতীয় টেস্টে মাত্র ১৩৫ ওভার খেলা হয়। বৃষ্টি, ভেজা আউটফিল্ড, এসব কারণ তো আছেই। সঙ্গে ছিল আলোকস্বল্পতাও। সাবেক ক্রিকেটারদের হতাশার সেই আলোকস্বল্পতা নিয়েই। আম্পায়ারদের গোঁড়ামি, সেকেলে মানসিকতা নিয়ে সাবেক ক্রিকেটাররা বেশ কড়া মন্তব্য করেছেন।

স্কাই স্পোর্টসে আলোকস্বল্পতা পরীক্ষায় আম্পায়ারদের লাইট মিটারের ব্যবহার নিয়ে সমালোচনা করেছেন আথারটন। আলোকস্বল্পতা নিয়ে আইসিসি ২.৮.৫.২ ধারা নিয়ে তিনি বলছিলেন, ‘ধারায় বলা আছে, খেলার মতো আলো আছে কিনা তা বিবেচনার জন্য আম্পায়াররা লাইট মিটার ব্যবহার করে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। নিয়ম কিন্তু বলছে না আপনাকে লাইট মিটার ব্যবহার করতেই হবে। নিয়মে কিন্তু ফাঁক আছে। কিন্তু বেশির ভাগ আম্পায়ারদের এই সুযোগটা নিতে দেখা যায় না। সবাই লাইট মিটার দেখে। সেভাবেই সিদ্ধান্ত নেয়।’

আথারটন আম্পায়ারদের স্বাভাবিক বিবেচনাবোধ ব্যবহার করার পরামর্শও দিয়েছেন, ‘আম্পায়াররা বলতে পারেন ‘‘আমরা ভাবছি এই বোলিংটা অত ভালো নয়। তারওপর তিন নম্বর ব্যাটসম্যান ব্যাট করছে আট নম্বর ব্যাটসম্যান নয়। তাঁর সুরক্ষা সরঞ্জামেও সমস্যা নেই। মন্থর উইকেটে আমরা খেলা চালিয়ে যেতে পারি।’

আরেক সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক নাসের হুসেইনের বিরক্তি আম্পায়ার ও ম্যাচ অফিশিয়ালদের মানসিকতায়, ‘এখন সবাই অস্বাভাবিক সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। স্বাভাবিক দুনিয়ায় ক্রিকেটাররা আলোক স্বল্পতা দেখলেই মাঠ ছাড়তে চাইত। আমরাও চাইতাম। তখন সেটা স্বাভাবিক চিত্র ছিল। কিন্তু এখন না। পুরো বিশ্ব ক্রিকেটের জন্য মুখিয়ে আছে। ক্রিকেটাররা সবাই কোয়ারেন্টিনে আছে। দলগুলো এমন সময়ে সফর করছে, বন্দী থাকছে। এমন সময় যখন আপনি খেলার সুযোগ পাচ্ছেন, তাহলে খেলার জন্য যে কোন কিছু করা উচিত। আগের মানসিকতা থাকা উচিত না, যখন আপনি সুযোগ পাবেন মাঠ ছাড়তে পারেন না। এই সপ্তাহটা আমাদের দেখাল, পুরোনো মানসিকতা বদলাতে হবে।’

শেন ওয়ার্নের সমালোচনাও শুনতে হয়েছে আম্পায়ারদের। আলোকস্বল্পতার কারণে খেলা বন্ধ করার আগে আম্পায়ারদের দ্বিতীয়বার চিন্তা করতে বলছেন তিনি, ‘সব সময় লাইট মিটারে সংখ্যা না দেখে আমাদের প্রশ্ন করা উচিত আসলেই কি খুব নিরাপত্তার ঝুঁকি আছে? এখন খেলা কি খুব বিপজ্জনক? এমন সময় শুধু লাইট মিটার দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে নিজের জ্ঞান ব্যবহার করা উচিত। সবকিছু বিবেচনার প্রথম সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত খেলা চালিয়ে যাওয়ার।’

শুধু সাবেকরা নন, ইংলিশ অধিনায়ক জো রুটও পরিবর্তন চাইছেন। সময়ের ক্ষতি পোষাতে সাড়ে দশটায় খেলা শুরু করার পক্ষে তিনি, ‘সব সময় যে সাড়ে দশটায় শুরু করতে হবে তা নয়। যখন সময়ের ক্ষতি কমানো দরকার তখন শুরু হতে পারে। সিরিজের আগে সমঝোতা স্মারকে খুব কড়াকড়ি না রেখে কিছুটা শিথিল রাখার ব্যাপারে আলোচনা করা যায়। আমরা হয়তো গাঢ় লাল ডিউক বলের জায়গায় একটু উজ্জ্বল বল ব্যবহার করতে পারি।’

ইএসপিএনের সূত্রে জানা গেছে, আলোক স্বল্পতার বিষয়ে আইসিসি ক্রিকেট কমিটির প্রধান অনিল কুম্বলে নতুন করে আলোচনা সভা ডাকবেন। এর আগেও এই বিষয়ে বেশ কয়েকবার আলোচনা হয়েছে। কিন্তু কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি আইসিসি ক্রিকেট কমিটি। এবার কোনো সমাধান হয় কিনা, সেটিই দেখার বিষয়।
সূত্রঃপ্রথম আলো