করোনার প্রণোদনা কবে হবে সম্পূর্ণ?

1

গত ঈদে সরকার ৫০ লাখ মানুষকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দুই হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ সহায়তার যে উদ্যোগ নিয়েছিল, তা এখনো শেষ হয়নি।

সরকার এ পর্যন্ত বিভিন্ন খাতে এক লাখ কোটি টাকারও বেশি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। তার মধ্যে তৈরি পোশাক খাতে পাঁচ হাজার কোটি টাকা, শিল্প খাতে ৩০ হাজার কোটি, ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্পে ২০ হাজার কোটি, কৃষি খাতে পাঁচ হাজার কোটি, রপ্তানি উন্নয়ন খাতে ১২ হাজার ৫০০ কোটি উল্লেখযোগ্য।

পোশাক খাতে প্রণোদনা ঋণ দেয়া হয় শতকরা চার ভাগ হারের সুদে। অন্যান্য খাতে শতকরা ৯ ভাগ সুদ হলেও তার অর্ধেক সরকার ব্যাংকগুলোকে ভর্তুকি দেয়ার কথা বলছে। পোশাক খাতে পাঁচ হাজার কোটি টাকার পর আরো দুই হাজার ৫০০ কেটি টাকা প্রণোদনা ঋণ দেয়া হয়েছে। এই ঋণ পোশাক শ্রমিকদের বেতন হিসেবেই দেয়া হয়। 

বিজিএমই’র সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান জানান, পোশাক শিল্পে পুরো সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা ঋণই বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু পোশাক খাত আরো ঋণ চাচ্ছে। তাদের যুক্তি হলো, সরকার যে ঋণ দিয়েছে তা বেতন-ভাতায় শেষ হয়ে গেছে। সামনে আরো তিন মাস বেতন-ভাতা দিতে ঋণ প্রয়োজন। 

সিদ্দিকুর রহমান বলেন, পোশাক খাতে প্রতি মাসেই বেতন-ভাতা বাবদ খরচ হয় পাঁচ হাজার কোটি টাকা। ঋণের সঙ্গে আমরাও ৪০ ভাগ দিচ্ছি। তাই আরো ঋণ না পেলে আমাদের পক্ষে সামনের তিন মাস বেতন দেয়া কঠিন হবে।

কয়েকটি তফসিলি ব্যাংকের কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংক শিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, কৃষি প্রভৃতি খাতে ঋণ দেয়ার জন্য এরই মধ্যে ব্যাংকগুলোকে একটি গাইডলাইন পাঠিয়েছে। তাতে আসলে শর্তে বিশেষ কোনো ছাড় দেয়া হয়নি। শুধুমাত্র সুদের একটি অংশ ভর্তুকি হিসেবে সরকার দেবে। ওই কর্মকর্তারা জানান, এই ঋণ দেয়া হচ্ছে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল হিসেবে। অনেকেই আবেদন করছেন, কিন্তু শর্ত পূরণ করতে পারছেন না। সবচেয়ে সমস্যায় আছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প মালিকরা। ফলে এখানে তেমন ঋণ বিতরণ হচ্ছে না।

শিল্পখাতে এ পর্যন্ত মাত্র তিন হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে বলে জানান সিপিডির অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, তৈরি পোশাক খাত তো প্রণোদনার ঋণ পেয়ে গেছে। কিন্তু অন্যান্য খাতের ঋণ নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। ব্যাংকগুলো নন-পারফর্মিং লোনে জর্জরিত। তাই তারা এই লোন দেয়ার ব্যাপারে খুবই সতর্ক। ফলে যথা সময়ে এই লোন পাওয়া যাচ্ছে না। করোনায় যে সহায়তার জন্য এই লোনের কথা বলা হয়েছে তা কতটা কাজে আসবে তা নিয়ে সন্দেহ আছে। আর এই লোনের মাধ্যমে শুধু শিল্প প্রতিষ্ঠানই ঘুরে দাঁড়াবে তা নয়, এখানে কর্মসংস্থানেরও প্রশ্ন আছে। 

ব্যাংকগুলো তাদের চাহিদা অনুযায়ী কোলেটারাল না পেলে ঋণ দিচ্ছে না। তাই এখন দাবি ওঠেছে, এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্যারান্টার হওয়ার। এসএমএমই এবং কৃষি খাতে মোট ২৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে সমস্যা হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। কারণ তাদের সাথে ব্যাংকের যোগাযোগ তেমন নেই। ফলে ব্যাংক যে ধরনের কাগজপত্র চায়, তা তাদের কাছে নেই। আর ব্যাংকগুলোর আশঙ্কা, তাদের ‘মন্দ ঋণ’ বেড়ে যায় কি-না।

খাদ্য সহায়তা

করোনার সময় সরকারের নেয়া বিশেষ খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি এখন বন্ধ আছে। এখন চলছে প্রচলিত ভিজিএফ, ভিডিজিসহ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি। গত ঈদে সরকার ৫০ লাখ মানুষকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দুই হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ সহায়তার যে উদ্যোগ নিয়েছিল, তা এখনো শেষ হয়নি। অনিয়মের কারণে মোবাইল ফোন নাম্বার আপডেটের কাজ এখনো চলছে। কারণ একাধিক ব্যক্তির নামে একই মোবাইল ফোন ব্যবহার করা হয়েছিল। 

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান জানান, করোনায় যে বিশেষ খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি নেয়া হয়েছিল তা ১১ জুন থেকে বন্ধ আছে। এখন শুধু ভিজিএফ কর্মসূচি চালু আছে। সামনে ঈদ উপলক্ষে এক কোটি ৬ লাখ পরিবারকে ভিজিএফ-এর আওতায় খাদ্য সহায়তা দিয়েছি। 

এর বাইরে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা এগুলো বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ খাদ্য সহায়তার আওতায় ১১ জুনের আগ পর্যন্ত সাড়ে ছয় কোটি পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে বলে প্রতিমন্ত্রী জানান। মোবাইল ফোন নাম্বার আপডেট হলে নগদ সহায়তা দেয়াও শুরু হবে। তবে এই বিশেষ খাদ্য কর্মসূচিতে অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে। অনিয়মের অভিযোগে দেশের ভিভিন্ন এলাকায় ইউপি চেয়ারম্যান, সদস্যরা গ্রেপ্তারও হয়েছেন।