কলাপাড়ায় ফেয়ার কার্ডের চাল আত্মসাতের চেষ্টা, ৪৫৮ কেজি চাল জব্দ

3

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নে ন্যায্য মূল্যের (ফেয়ার কার্ডের) চাল আত্মসাৎ করে বিক্রির উদ্দেশ্যে পাঠানোর সময় এলাকাবাসীর হাতে আটক হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রবিবার সকালে ইউনিয়নের মাসুদ মীরের গোডাউন হতে আত্মসাতকৃত চাল কলাপাড়া শহরে পাঠানোর সময় টলার হতে আটক করা হয়। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, লালুয়া ইউনিয়নের ফেয়ার কার্ডের চাল বিতরনকারী ডিলার মাসুদ মীর তার নিজস্ব গোডাউনে বসে গত শুক্রবার ও শনিবার চাল বিতরন করেন। কয়েকজন কার্ডধারীরা সময় মত চাল নিতে আসেনি।

নিয়মানুযায়ী তাদের চাল অবশিষ্ট হিসাবে গোডাউনে গচ্ছিত থাকার কথা। কিন্তু ডিলার মাসুদ মীর ও তার সহযোগীরা সেই চাল আত্মসাৎ করে বিক্রির উদ্দেশ্যে গোডাউন হতে বের করে। তারা বস্তা পরিবর্তন করে অন্য বস্তায় চাল ঢুকিয়ে তা পাচার করার জন্য একটি টলারে তোলে। এতে এলাকাবাসীর সন্দেহ হলে চাল আটক করে স্থানীর কবিরের চায়ের দোকানে রেখে উপজেলা প্রসাশনকে সংবাদ দেয়। পরে কলাপাড়া থানা পুলিশ ৪৫৮ কেজি চাল জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।

স্থানিয়দের মতে, ডিলার মাসুদ মীর আগেও এভাবে অনেক চাল আত্মসাৎ করেছে কিন্তু উপযুক্ত প্রমাণের জন্য তাকে ধরা যায়নি। চাল বিতরনের সময় তিনি বিভিন্ন টালবাহানা করে কার্ডধারীদের চাল না দিয়ে ফিরিয়ে দেয়ার অভিযোগও পাওয়া যায়। আবার ফেয়ার কার্ডের তালিকায় অনেকের নাম থাকলেও যথাসময়ে হাতে কার্ড না আসায় তারা চাল উত্তোলন করতে পারেনি। এদের চালও ডিলার আত্মসাত করতে পারে বলে এলাকাবাসী ধারনা করেন।

ফেয়ার কার্ড হাতে নিয়ে চাল নিতে আসা ৫ নং ওয়ার্ডের আমেনা বেগম (কার্ড নং ৮৩৫), পিয়ারা বেগম (কার্ড নং ৮২৪) ও জামাল হাওলাদার (কার্ড নং ৮২৯) সহ একাধিক ভুক্তভোগীরা জানান, আমরা শুক্রবার সকালে চাল নিতে আসলে সেদিন সকাল বেলা চাল বিতরন না হওয়ায় ফেরত যাই। পরের দিন বিকালে আসলে শুনি চাল বিতরন শেষ হয়ে গেছে। আজ এসে শুনি আমাদের চাল বিক্রির করতে নেয়ার সময় আটক হয়েছে। সরকার আমাদের সুবিধার জন্য ন্যায্য মূল্যে চাল দিচ্ছে কিন্তু এদেরমত অসাধু ডিলারদের জন্য আমরা সেই সুবিধা হতে বঞ্চিত হচ্ছি। আমরা এর উপযুক্ত শাস্তির দাবী জানাচ্ছি।

প্রত্যক্ষদর্শী ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সভাপতি মো. শহিদ খাঁন জানান, বস্তা পরিবর্তন করে চাল কলাপাড়া শহরে নেয়ার জন্য টলারে উঠালে আমাদের সন্দেহ হয়। আমরা তা আটক করে প্রশাসনকে খবর দেই। গরীবের চাল আত্মসাতকারীদের শাস্তির দাবী জানাচ্ছি আমরা।

অভিযুক্ত ডিলার মাসুদ মীরার সাথে কথা হলে তিনি জানান, চাল বিতরন শেষে ১৬ জনের চাল অবশিষ্ট ছিল। চালগুলো খারাপ হওয়ায় পরিবর্তনের জন্য কলাপাড়া খাদ্য অফিসে নেয়ার সময় স্থানিয়রা চাল আটক করে। তবে, বস্তা পরিবর্তনের কারন ও উপজেলা খাদ্য অফিস জানে কিনা এবিষয়ে কোন সঠিক উত্তর তিনি দিতে পারেননি।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, চাল আত্মসাতের খবর শুনে সেখানে আমার প্রতিনিধি পাঠিয়েছি। ঘটনার সত্যতা পেলে ওই ডিলারের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

কলাপাড়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, চাল জব্দ করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। চাল আত্মসাতকারী ডিলারের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মোহাম্মাদ শহিদুল হক বলেন, আমি বিষয়টি শুনে ঘটনাস্থলে থানা পুলিশ পাঠিয়েছি। আইনানুযায়ী মামলা করা হবে।