কুড়িগ্রামের রাজারহাটের উপজেলা নির্বাহী অফিসার যেন মানবতার মূর্তপ্রতিক

1

মোজাহিদুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম থেকে: করোনা প্রতিরোধে কুড়িগ্রামের রাজারহাটে যখন লকডাউনের মধ্যে প্রশাসন প্রতিটি মানুষকে ঘরে থাকার পরামর্শ দিচ্ছে, ঠিক তখনি কুড়িগ্রামের রাজারহাটে শ্রমজীবি মানুষগুলো কর্মহীন হয়ে পরেছে। তারা অভাব অনটনে দিন অতিবাহিত করছে।

গত কয়েকদিনে অসহায় এই মানুষগুলো ঘরের ভেতর অবস্থান করায় চরম বিপাকে পরেছে। কাজ কর্ম নেই, টাকা পয়সা নেই। তারা খাবে কি? করবে কি? এই ভেবেই তারা যখন নির্ঘুম রাত্রি যাপন করতেছিলো ঠিক তখনি আশার প্রদীপ নিয়ে রাজারহাটে মানবতার সেবায় নিজের মাসের পুরোটা বেতন হতে ঐ সকল শ্রমজীবি খেটে খাওয়া অসহায় মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে দিচ্ছেন রাজারহাটের সুযোগ্য ইউএনও জনাব মোঃ যোবায়ের হোসেন।

তিনি এই সংকটময় মুহূর্তে জনগনের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করার সুযোগ পেয়েছেন বলে তার নিজস্ব ফেইসবুকে রাজারহাটের অপামর খেটে খাওয়া সকল স্তরের মানুষের প্রতি তার হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসার অভিব্যাক্তি প্রকাশ করেন। তার ফেইসবুকে প্রকাশিত অভিব্যাক্তিটি হুবহু তুলে ধরা হলো-“জনগণের কাছে নিয়েছি অনেক, এখন সময় দেওয়ার”

আমি রাষ্ট্রের একজন নগণ্য কর্মচারী। রাষ্ট্র আমাকে বেতন দেয়, খাবার দেয়, আশ্রয় দেয়, আলো দেয়, বাতাস দেয়। রাষ্ট্রই আমার অস্তিত্ব, রাষ্ট্রই আমার ঠিকানা। আর এই রাষ্ট্রের একচ্ছত্র মালিক জনগণ। জনগণই আমাকে লালন পালন করেছে, লেখাপড়া শিখিয়েছে, বড় করে তুলেছে। যে স্বাচ্ছন্দ আর সম্মানটা আমি এখন পাই, সেটাও এই জনগণেরই দান, জনগণেরই উপহার।

আমার সেই আশ্রয়দাতা রাষ্ট্র আর অন্নদাতা জনগণ যখন চরম সংকটাপন্ন, যখন মারাত্মক এক ক্রান্তিকাল অতিবাহিত করছে, তখন তো আমি হাত বুকে করে বসে থাকতে পারি না অকৃতজ্ঞ আর স্বার্থপরের মত। এখন আমার মানুষের দুঃসময়, এখন আমার রিকশাচালক, ভ্যানচালক, মুচি, ঝাড়ুদার, দিনমজুর, নাপিত, গৃহকর্মী, চায়ের দোকানদার, হোটেল শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর ঘরে টাকা নাই, বেঁচে থাকার মত প্রয়োজনীয় খাবার নাই।

এখনও কি আমি বসে থাকব? আমি কি পারব তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে? আপনি কি পারবেন যন্ত্রণাক্লিষ্ট করুণ মুখগুলো দেখেও চুপ করে বসে থাকতে? পারবেন না, আপনার বিবেক আপনাকে এতবড় অন্যায় করতে দিবে না।এই মানুষগুলো কখনও বিশ্বাসঘাতকতা করে না, নিশ্চিত থাকুন এরাই আপনাকে মাথায় তুলে রাখবে। আজীবনই এরা আপনাকে দেখে এসেছে, আপনাকে আদর যত্ন করে পরম মমতায় বড় করে তুলেছে, আপনার সুখের জন্য মাথার ঘাম পায়ে ফেলেছে। আপনার পরম বন্ধু সেই মানুষগুলো আজ বিপদে পড়েছে, সীমাহীন কষ্টে আছে, অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। আপনি তাদের বিপদে একটু এগিয়ে আসুন, অর্থ-খাবার দিয়ে একটু সহযোগিতা করুন, তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে একটু পাশে এসে দাঁড়ান। আপনার ভাল থাকার জন্যই আপনাকে এটুকু করতে হবে।

তারা স্বাভাবিক অবস্থায় আসলে আপনাকে একশ গুণ ফিরিয়ে দিবে। দিবে, আপনি নিশ্চিত থাকুন, গুণে গুণে একশ গুনই ফিরিয়ে দিবে। এরা কখনও নেয় না, এরা নিতে জানে না, এরা ঋণী থাকতে জানে না। এরা শুধু দিতে জানে, অকাতরে দিয়েই যায়।