কোভিড-১৯ এ কুরবানি : এক ভিন্ন চিন্তার ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি

2

করোনা জীবনের বিভিন্ন বিভাগের মত ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনায় ব্যপক পরিবর্তন এনে দিয়েছে। আসন্ন জিলহজ মাসের সাথে ইসলামের অন্যতম ইবাদত হজের পাশাপাশি কুরবানির বিষয়টিও জড়িত।

কুরবানি ইসলামের অন্যতম একটি শিআর বা প্রতীক। কুরবানি সক্ষম ব্যক্তির উপর ওয়াজিব কিংবা সুন্নাতে মুআক্কাদাহ। ব্যক্তি কুরবানির দিবসেও সক্ষমতার অধিকারি হলে তাকে বিধানটি পালন করতে হবে।

কুরবানির সাথে প্রান্তিক মানুষদের জীবন-জীবিকার প্রশ্ন রয়েছে। সামান্য কিছু মুনাফা অর্জন করার আশায় তারা বছরব্যাপি পশু পালন করেন। অন্যদিকে সারা বছর গোশত ক্রয়ে অক্ষম দরিদ্র মানুষেরা কুরবানির জন্য দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকে। দেশের চামড়া শিল্প কেন্দ্রীক অর্থনীতি কুরবানি নির্ভর।

‘ফিকহুল ওয়াকি’ তথা পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা ইসলামী শরীয়তের একটি বুদ্ধিবৃত্তিক প্রসিদ্ধ নীতি। পরিস্থিতির আলোকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার প্রতি উদ্ধুদ্ধ করে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মু’মিনগণ তোমরা সতর্কতা অবলম্বন কর’ (নিসা : ৭১)।

এখানে সতর্কতার কথা মূলতঃ শত্রু ও বিপদের মাত্রা নির্ণয়ের প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে শত্রুর অবস্থার আলোকে তোমাদের উপর সম্ভাব্য যে নেতিবাচক পরিস্থিত তৈরি হতে পারে, সে অনুযায়ী তোমরা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ কর। আল্লাহ বলছেন, ‘তোমরা মানুষদেরকে প্রজ্ঞা এবং উত্তম নসীহতের সাথে ইসলামের দিকে আহবান করো; আর সুন্দর যুক্তিতে তাদের যুক্তিগুলো খন্ডন কর’ (নাহল: ১২৫)। এখানে প্রজ্ঞা দ্বারা মূলতঃ পরিস্থিতির আলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপকেই বুঝানো হয়েছে।

ইসলামে কোন ইবাদত রহিত করার উদাহরণ পাওয়া যায় না; বরং বিকল্প পদ্ধতিতে সে সব ইবাদত পালন করার নজির রয়েছে। কুরবানি বাস্তাবয়নে বিভিন্ন দেশে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠলেও আমাদের দেশে হাটে গিয়ে পশু ক্রয় এবং দলবদ্ধ হয়ে সেটি জবাই করা এখন পর্যন্ত একমাত্র রীতি।

তাছাড়া এখানে পশুর নিরাপদ কেনা-বেচার জন্য উন্নত বিশ্বের মত ‘লাইভস্টক মার্কেট’ যেমন নেই, তেমনি নিরাপদ জবাই ব্যবস্থাপনা হিসেবে ‘পাবলিক এবাট্রর’ও গড়ে উঠেনি। ফলে করোনার সংকটকালীন সময়ে ক্রেতা-বিক্রেতা স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ও জবাই ব্যবস্থাপনায় সনাতন পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয কৌশল অবলম্বন পরিস্থিতির একান্ত দাবি।