কোরআনে আমি জীবনের প্রশান্তি খুঁজে পেয়েছি —অস্টিন আমানি

1

নিজস্ব প্রতিবেদক:
কেনিয়ান যুবক অস্টিন আমানি ৬ জানুয়ারি ২০২০ তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করেছে। সে মুসলিম হয়েছে। একটি খ্রিস্টান পরিবারের সদস্য হিসেবে ইসলাম গ্রহণ তার জন্য মোটেও সহজ ছিল না। কেননা শৈশব থেকে সে ইসলাম সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা নিয়ে বড় হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত যখন তার নতুন স্কুলে ভর্তি হওয়ার সময় হয় এবং নতুন পরিবেশে সে নিজেকে কিভাবে রক্ষা করবে সে বিষয়ে তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয় এবং নানা কৌশল শেখানো হয়। মিডিয়ার প্রচারণার কারণে আমানির পরিবার ইসলাম ও মুসলমান সম্পর্কে অত্যন্ত নেতিবাচক ধারণা পোষণ করে। তার মা তাকে উপদেশ দেয় সে যেন মুসলিম শিক্ষার্থীদের সঙ্গে না মেশে। তিনি আমানির সামনে মুসলিমদের যথাসম্ভব ভয়ংকর হিসেবে তুলে ধরলেন। আর এটাই তাকে মুসলিমদের ব্যাপারে ভাবতে বাধ্য করল।

স্কুলে যাওয়ার পর আমানি তার মায়ের নির্দেশনা মান্য করে চলল এবং মুসলিমদের থেকে দূরে দূরে থাকল। বিশেষত তাদের সঙ্গে কখনো ওয়াশরুমে যেত না—যখন তারা সেখানে ভিড় করত। কিন্তু আমানির একজন মুসলিম সহপাঠীর সহানুভূতি ও উত্তম আচরণ তার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এই ব্যক্তিই আমানির জীবনে বাঁকবদল এনে দেয়। আমানি তাকে Mr. FWOW (First Wonder of the World) বলে অবহিত করে। তার আচরণ তাকে মুগ্ধ করল। বিশেষত সে যখন দেখত মুসলিম সহপাঠী সব সময় সবার সঙ্গে হাসিখুশি, তার ভেতর দুশ্চিন্তার কোনো ছাপ নেই। এমনকি শিক্ষকের সঙ্গে কোনো সমস্যায় পড়লেও সে হাসিমুখে থাকে। তার এই সৌহার্দপূর্ণ আচরণ মুসলিমদের সম্পর্কে আমানির চিন্তাধারা পাল্টে দেয়। সে তাদের কাছে ঘেঁষতে শুরু করে। মুসলিম সহপাঠীর কাছে তার প্রথম প্রশ্ন ছিল, ওয়াশরুমে বেসিনের সামনে ভিড় করে তোমরা কী করো? সে জানাল, ধর্মীয় প্রার্থনার (নামাজের) আগে আমরা নিজেদের পবিত্র করি—যাকে অজু বলা হয়। উত্তর শুনে মুসলিমদের সম্পর্কে তার ধারণা আরো ইতিবাচক হলো।

ঘনিষ্ঠতা বাড়ার পর আমানিকে তার মুসলিম বন্ধুরা ইসলাম সম্পর্কিত কিছু বই ও কোরআনের একটি ইংরেজি অনুবাদ দিল। যা বিছানার নিচে রেখে সে গোপনে পড়তে লাগল। কোরআন পাঠের সম্পর্কে আমানির বক্তব্য হলো, ‘কোরআন পাঠ শুরু করার পর আমার শরীরে আমি অপার্থিব প্রশান্তি অনুভব করি—যা আমি আর কখনো অনুভব করিনি। মানবজীবনের সব রহস্য আমি কোরআনে খুঁজে পেয়েছি।’

ইসলামের প্রতি আমানির মনে ভালোবাসার যে বীজ বোপিত হয়েছিল তা ফলবান বৃক্ষে পরিণত হওয়ার অপেক্ষায় ছিল। সে এমন একটি ধর্মবিশ্বাসের সন্ধানে ছিল যা তাকে জীবনে সুখী হতে এবং আল্লাহর অনুগত বান্দা হিসেবে জীবনযাপন করতে সহায়ক হবে। সুতরাং সে কারো পরামর্শ ছাড়াই দ্রুত স্থানীয় মসজিদে যাওয়ার এবং গোপনে ‘কালেমা’ পাঠ করার সিদ্ধান্ত নিল। কিন্তু তার চলাচলের অবাধ সুযোগ বা অনুমতি ছিল না। শুধু পারিবারিক কাজেই সে বের হতে পারত। সুতরাং তাকে সুযোগের অপেক্ষায় থাকতে হলো। আমানি তার মা-বাবার কাছে একটি ফটোগ্রাফি কোর্সে অংশগ্রহণের অনুমতি চাইল এবং তারা তাতে সম্মত হলো। এটাই তাকে নাইরোবি শহরের একটি মসজিদে যাওয়ার এবং ‘কালেমা’ পাঠের সুযোগ এনে দেয়। ৬ জানুয়ারি ২০২০ আমানি আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলাম গ্রহণ করে। সে তার পরিবারের কাছে ইসলামের সৌন্দর্য তুলে ধরতে চায়। আমানির দাবি, নিজের অজান্তেই মা তার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। কেননা তাঁর নির্দেশনাই তাকে মুসলিমদের প্রতি কৌতূহলী করেছিল।