অযোগ্য দূর্নীতিবাজ প্রধান শিক্ষকের অপসারণ প্রয়োজন- অভিভাবকদের দাবি

19

মানহীন টিফিন,বই বাণিজ্য, জরাজীর্ণ ক্লাস রুম, সর্বশেষ আইসিটি ক্লাস অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার তল্লা এলাকায় অবস্থিত বি বি মরিয়ম উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিউল আলম খাঁনের বিরুদ্ধে। শফিউল আলম খাঁন নিজে যেমনি তদবির করতে পছন্দ করেন তেমনি তদবীরের কাজও করতে বেশ স্বাছন্দ করেন শিক্ষক নামে এই মানুষটি।
আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর প্রধান শিক্ষকের মেয়াদ শেষ। ছোট হয়ে আসছে তার দুর্নীতির দিনগুলো। তাই বিভিন্ন তদবীর লবিং করে আবারো নিজের পদ বাগিয়ে আনতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শফিউল আলম খাঁন।

এদিকে বিবি মরিয়ম উচ্চ বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সমাজ সেবক,ক্রীড়ানুরাগী, শিক্ষানুরাগী মডেল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মাসুদুজ্জামান মাসুদ। শফিউল আলম খাঁনের পদ স্বপদে রাখতে নাসিম ওসমান পুত্র আজমীরী ওসমানের নেতৃত্বে খুন যখমের হুমকির অভিযোগে ফতুল্লা থানায় সাধারণ ডায়েরী করেছেন মডেল ডি ক্যাপিটেল ইন্ডাষ্ট্রির উপ-মহা ব্যবস্থাপক অরুন কুমার সাহা। ডায়েরী নাম্বার: ১৬৪১, এতে বিবাদী করা হয়েছে, বি বি মরিয়মের প্রধান শিক্ষক শফিউল আলম খাঁন, আজমেরী ওসমান, তরিকুল ইসলাম লিমন, আনোয়ারুল করিম টিটু, সনেটসহ অজ্ঞাত আরো ৪/৫জনকে।

এঘটনায় উদ্বেগ, উৎকন্ঠা বিরাজ করছে বিদ্যালয়টির অভিভাবকদের মাঝে। অভিভাবকরা মনে করছেন, গতানুগতিক শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে প্রধান শিক্ষককে অপসারন করতে হবে। তাছাড়া প্রধান শিক্ষকের মেয়াদ আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হয়ে যাচ্ছে। যার মাধ্যমে একজন দূর্নীতিবাজ শিক্ষকের কালো অধ্যায় সমাপ্ত হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সচেতন অভিভাবক মহল।

বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আরিফ হোসেন বলেন, অত্যন্ত সুমানের সাথে পড়াশুনার মান বৃদ্ধি করে দিন দিনই এগিয়ে চলেছে বিবি মরিয়ম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি। ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বিশিষ্ট শিল্পপতি মোহাম্মদ মাসুদুজ্জামান মাসুদের সঠিক পরিচালনায় বিদ্যালয়টি ইতি মধ্যেই ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছেন। বর্তমান প্রধান শিক্ষক শফিউল আলম খাঁন আছেন আর মাত্র কটা দিন। তার মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর। তার বিরুদ্ধে যত অভিযোগই রয়েছে আমরা তা নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে চাই না , তার বিদায় হউক আনন্দের, বিদায় হউক স্বছন্দের এমনটাই আমরা প্রত্যাশা করি।
অভিভাবকরা বলছেন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাসুদুজ্জামান বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হওয়ার পর থেকেই উন্নয়নের ছোয়া লাগে প্রতিষ্ঠানটিতে। বিদ্যালয়টির শিক্ষকদের আগের বেতনের চেয়ে
৩০% বাড়ানো হয়েছে অপরদিকে ছাত্র-ছাত্রীদের ফি ৩০ শতাংশ কমানো হয়েছে । সুপেয় পানির সুব্যবস্থা করা হয়েছে, আইসিটির উন্নয়ন,টয়লেট বেসিনের ব্যবস্হা অবৈধ ফি অাদায় বন্ধ হয়েছে সর্বোপরি নিচ তালায় গড়ে তোলা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ কর্ণার। পার্শে খেলাধুলার উন্নয়নে মাঠ নির্মানের প্রক্রিয়া চলমান।তারপরও একটি চক্র বিদ্যালয়টির সুনাম ক্ষুনে কাজ করছে বলে জানান তারা।
উন্নয়নের ধারাবাহিকতাকে বাধাগ্রস্ত করতে কুচক্রী শফিউল আলম বেছে নিয়েছে অসৎ পন্থা এমনটাই দাবি অভিভা্বকদের।
অভিভাবকরা ও সচেতন মহল মনে করছেন, বিবি মরিয়ম স্কুলের প্রধান শিক্ষক শফিউল আলম এ যেনো গোদের ওপর বিষফোঁড়া। ১১ নম্বর ওয়ার্ড তথা হাজিগঞ্জ এলাকায় কৃতী সন্তান মাসুদুজ্জামান মাসুদ নিজ অর্থায়নে প্রাণের এলাকার বিবি মরিয়ম উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় কে নারায়ণগঞ্জের একটি আদর্শ স্কুল হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়াসে স্কুলটির প্রধান অভিভাবকের দায়িত্ব নেন। ম্যানেজিং কমিটির প্রধানের দায়িত্ব নিয়ে উক্ত ওয়ার্ড ও আশপাশের সুধীসমাজ শিক্ষানুরাগীদের সাথে নিয়ে যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা প্রণয়নের দৃঢ় প্রত্যয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত সাবেক কমিটিগুলোকে বিলুপ্ত করেন।
শুরু করেন সংস্কার ও পরিবর্তনের যুদ্ধ। স্কুলটি সাজতে শুরু করে নতুন সাজে। অভিবাবকদের দাবির মুখে স্কুল ফি কমানো হয় ৩0 শতাংশ,শিক্ষকদের মনসংযোগ বৃদ্ধিকল্পে বেতন বাড়ানো হয় ৩0 শতাংশ। ক্লাস রুমের পাশেই স্থাপন করা হয় সুপেয় পানির সুব্যবস্থা। টয়লেট ব্যবস্থার সংস্কার করা হয়, যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আইসিটি কে ঢেলে সাজানো হয়। সুস্থ দেহ সুন্দর মন এই বিবেচনাকে সামনে নিয়ে খেলার মাঠের উন্নয়নে মনোযোগী হন মাসুদুজ্জামান মাসুদ।
এমনি উন্নয়নের ধারাবাহিকতা দেখে একটি মহল ঈর্ষান্বিত হয়ে ঐতিহ্যবাহী ঐতিহাসিক এই স্কুলটি কে ধ্বংস করার পাঁয়তারা লিপ্ত হয়।
চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনী, স্কুলের প্রধান শিক্ষক শফিউল আলমের দায়িত্বের মেয়াদ আসছে ৩0 তারিখে শেষ হবার কথা কিন্তু শিক্ষাখেকো শফিউল আলম যে নাছোড়বান্দা,তিনি তার দায়িত্ব ছাড়তে নারাজ। স্কুলটিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেওয়াই যেন আজ তার দায়িত্ব। এমনি অবস্থায় তাঁর চেয়ারে বহাল তবিয়তে অাসিন থাকার প্রয়াসে সে বেছে নিয়েছে অসৎ পন্থা।
এ যে শিক্ষিত সভ্য সমাজের উলঙ্গ নৃত্য। মরহুম নাসিম ওসমান সাহেবের পুত্র অাজমেরি ওসমান কে বিভ্রান্ত করে লেলিয়ে দেয়া হলো শিক্ষানুরাগী মাসুদুজ্জামান মাসুদ সাহেবের উপর। মাসুদ সাহেবের সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সকল কর্মকান্ডের কান্ডারী মনির হোসেন সর্দার কে লাঞ্ছিত অপমানিত করার অপচেষ্টা চালানো হলো, সাথে শফিউল আলম কে স্ব-পদে বহাল রাখার জন্য হুমকি ধমকি দেওয়া হলো। শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংসের এমনি অপপ্রয়াসকে অভিভাবক এলাকাবাসী সুধী সমাজ কেউই সহজভাবে মেনে নিতে পারছে না। ঐতিহ্যবাহী এই স্কুলটিকে বাঁচাতে বিক্ষুব্ধ জনতা স্কুল সম্মুখে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে।

গতানুগতিক শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে শিক্ষা ব্যবস্হাকে ঢেলে সাজানোর প্রয়োজনে প্রধান শিক্ষক শাফিউল আলম খাঁনের অপসারণ চায় অভিভাবক মহল।