গুম কাকে বলে জানতামই না: ফখরুল

0

মানুষ গুম হওয়ার মতো ঘটনার সঙ্গে কখনও পরিচিত ছিলেন না বলে দাবি করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সরকারের দমনপীড়নের চিত্র তুলে ধরে বৃহস্পতিবার এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “আজকে বিএনপির ৩৫ লক্ষ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে এক লক্ষের ওপরে মামলা। হাজারো নেতাকর্মী গুম হয়েছে, খুন হয়েছে।

“ইলিয়াস আলীর মতো নেতা, চৌধুরী আলমের মতো নেতা, লাকসামের পারভেজের মতো নেতাসহ বহু নেতাকর্মী গুম হয়ে গেছেন। তাদের কোনো খোঁজ নেই। আমরা এই পরিস্থিতির সঙ্গে পরিচিতি ছিলাম না। আমরা গুম শব্দটা জানতামই না, গুম কাকে বলে। আজকে আমরা আমাদের নেতাদেরকে গুম হয়ে যেতে দেখেছি।”

ফখরুল বলেন, “আমরা দেখেছি খুন করছে, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চলছে এবং মানুষের সমস্ত অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। এই অবস্থা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। আজকে সত্যিকার অর্থে প্রত্যেকটি মানুষ এখান থেকে বেরিয়ে আসতে চায়। বিশেষ করে নতুন প্রজন্ম এখান থেকে বেরিয়ে আসতে চায়।”

বিএনপির সাবেক মহাসচিব ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদারের ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিকালে ‘ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদার স্মৃতি সংসদ’ এর উদ্যোগে এই ভার্চুয়াল আলোচনা সভা হয়।

সরকার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দখল করে দেশে ‘একনায়কতন্ত্র’ চালু করেছে বলে অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল।

“আজকে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে তারা দখল করে নিয়েছে এবং সেটা দখল করেছে শুধু বন্দুক-পিস্তলের জোরে টানা ক্ষমতায় থাকার জন্য, একদলীয় শাসন ব্যবস্থাকে পাকাপোক্ত করার জন্য। আজকে বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থেই গণতন্ত্রবিহীন, একটা ফ্যাসিবাদী একনায়কতন্ত্রে পরিণত হয়েছে।

“এই অবস্থা থেকে আমাদের বেরোতে হবে। এদেরকে সরাতে হবে, জনগণকে মুক্তি দিতে হবে এবং সেই মুক্তি দিতে হলে জনগণকে জাগিয়ে তুলতে হবে। জনগণকে জাগিয়ে তুলতে হলে বিএনপিকে দেশের সমস্ত মানুষকে, সকল রাজনৈতিক শক্তিকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এদেরকে পরাজিত করতে হবে।”

নির্বাচন কমিশনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “কোনোদিন আমরা কল্পনাই করতে পারিনি যে, এই নির্বাচন কমিশন দেশে একটা এই ধরনের ভয়াবহ নির্বাচন করবে। তিন তিনটা নির্বাচনই তারা একই ধরনের করেছে।”

“এটা একটা হাইব্রিড সরকার। তারা নির্বাচনকে ব্যবহার করবে ক্ষমতায় থাকার জন্য এবং করছেও তাই। তারা পুলিশ, সেনাবাহিনী, অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, আদালত- সব প্রতিষ্ঠানকে নিয়ন্ত্রণ করে বলেছে যে, আমরা তো নির্বাচিত সরকার।”

তিনি আরও বলেন, “এইরকম একটা পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে আমরা লড়াই করছি। আমরা কখনও সরে যাইনি। আমরা এর মধ্যে সংগ্রাম করছি, আমরা দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার জন্য কাজ করছি। আমাদের সবচেয়ে বড় সক্ষমত হয়েছে যে, আমরা দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছি, বিভক্ত হতে দেইনি।।”

স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের পরিচালনায় আলোচনায় অংশ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, কেন্দ্রীয় নেতা রুহুল কবির রিজভী, ফজলুল হক মিলন, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, সিরাজুল হক, নিলোফার চৌধুরী মনি, রশিদুজ্জামান মিল্লাত, যুবদলের সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, প্রয়াত নেতার সহধর্মিনী মাহমুদা সালাম, মেয়ে সালিমা বেগম প্রমুখ।