চকরিয়ায় মা-মেয়ের কোমরে রশি বেঁধে নির্যাতন

3

চকরিয়া উপজেলার হারবাংয়ে মা-মেয়ের কোমরে রশি বেঁধে নির্যাতনের বহুল আলোচিত ঘটনায় চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলাম মিরানসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

এতে আসামী করা হয়েছে অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩০ জন। মামলা নং -জিআর ৩৫৭/২০। ঘটনার ভিকটিম পারভিন আকতার (৪২) বাদি হয়ে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) চকরিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার অন্যান্য আসামীরা হলেন–উত্তর হারবাং বিন্দারবানখীল এলাকার মাহবুবুল হকের ছেলে নজরুল ইসলাম (১৯), ইমরান হোসেনের ছেলে জসিম উদ্দিন (৩০) ও জিয়াবুল হকের ছেলে নাছির উদ্দিন (২৮)।

রবিবার (২২ আগস্ট) দিবাগত রাতে এই তিন আসামী গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে জেলা কারাগারে রয়েছে। চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলাম
রয়েছে পলাতক ।

থানার সুত্র ধরে মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন চকরিয়া আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও বাদি পক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক।

কথিত গরু চুরির অভিযোগে মা ও মেয়েকে কোমরে রশি বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় চেয়ারম্যানসহ চারজন ব্যক্তি জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে, সোমবার দুপুরে চকরিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নির্যাতিত মা ও মেয়েসহ তিনজনকে জামিন দিয়েছেন।

জামিনপ্রাপ্তরা হলেন– চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার শান্তিরহাট কুসুমপুরের মৃত আবুল কালামের স্ত্রী পারভিন আক্তার (৪২), আবুল কালামের দুই মেয়ে যথাক্রমে সেলিনা আক্তার সেলী (২৮) ও রোজিনা আক্তার (২৩)।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে হারবাংয়ের দক্ষিণ পহরচাঁদা এলাকায় গরু চুরির অভিযোগে মা-মেয়েসহ ৫ জনকে আটক করে স্থানীয়রা। সেখানে মা-মেয়ের কোমরে রশি বেঁধে টেনে নিয়ে যাওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশের পর এটি শনিবার সবখানে জানাজানি হয়।

এ ঘটনায় রবিবার (২৩ আগস্ট) স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা নেয় চকরিয়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত।

মামলাটি চকরিয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপারকে ৭ কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন বিচারক রাজিব কুমার দেব।

একই ঘটনায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় হতে পৃথক দুইটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।