না.গঞ্জের সব এমপিরা হারুনকে চাঁদা দিতো

56

নারায়ণগঞ্জের সব এমপিরা নিজেদের বেপরোয়া নেতাকর্মীদের পুলিশে হাত থেকে বাঁচিয়ে রাখতে পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদকে চাঁদা দিতো। যে কারনে আড়াই হাজার উপজেলা, রূপগঞ্জ উপজেলা, সোনারগাঁ উপজেলা ও শহরের দক্ষিনাংশে কোন ধরনের অভিযান চালানো হয় নি। শুধুমাত্র সাংসদ শামীম ওসমানের নেতৃত্বে যারা মাঠ দখলে রেখেছে কেবল তাদেরই গ্রেফতার করে এসপি হারুন। তিনি নারায়ণগঞ্জে বদলী হয়ে আসার পর থেকেই আলোচিত হয়ে উঠেন বিভিন্ন কারনে। এছাড়াও গাজীপুর জেলা ও ডিএমপির লালবাগ জোনেও বিতর্কিত বিভিন্ন কর্মকান্ডের কারনে তিনি সাধারন মানুষের কাছে বিতর্কিত হয়ে উঠেন। স্থানীয়রা জানায় লালবাগ জোনে থাকাকালীন তিনি বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয় ও কলেজ ছাত্রলীগ শাখার নেতাদের একটি বহর নিয়ে চলাফেরা করতেন। ওই এলাকার জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়, কবি নজরুল কলেজ, সহরোয়ার্দী কলেজসহ অন্যান্য কলেজের উগ্র ছাত্রদের সাথে রাখতেন। তার গাড়ীর পেছনে ৫০/৬০ টি মটরসাইকেলের বহর থাকতো। যদিও সেই দৃশ্য ছাত্রলীগ ও স্থানীয় প্রভাব বিস্তারকারীদের জন্য অত্যন্ত সুখকর বিষয় ছিলো। তবে সাধারন মানুষ ও ব্যবসায়ীদের জন্য অন্যায় সহনের কারন হয়ে পড়ে। গাজীপুর জেলায় সিটি নির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং জাতীয় নির্বাচনের পূর্ব সময়ে কাজ করেছেন। স্থানীয় বড় বড় ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে ও নারী শিশু কখনো কখনো চাঁদাবাজি মামলা দিয়ে হয়রানী করার বিস্তর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সেখানে থাকা অবস্থায়ই তার স্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে ১৫০০ কোটি টাকাসহ সেই দেশের আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন। তবে তার স্ত্রী এত টাকা কোথায় পেলেন এমন প্রশ্ন অনেকের মধ্যে থাকলেও তা কেউ খতিয়ে দেখা হয় নি। অনেক প্রশ্ন নিয়ে এসপি হারুন নারায়ণগঞ্জে আসেন নির্বাচন পূর্ব সময়ে। নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরই তিনি ঘোষণা দেন কোন অপরাধ নারায়ণগঞ্জে তিনি রাখবেন না। যেই কথা সেই কাজ। অভিযান চালানো শুরু করেন শামীম ওসমানের বড় বড় খলিফাদের দিক থেকে। গ্রেফতার করা হয় মীর হোসেন মীরু, শাহআলম টেনু। মামলা ও জিডি করা হয় তানভীর আহমেদ টিটু ও শাহ নিজামের বিরুদ্ধে। এ অভিযান চলাকালীন সময়ে নারায়ণগঞ্জের যারা গ্রেফতারকৃতদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিলেন তারা সহ শহরের অনেক সুশীল সমাজের নেতারাও এসপি হারুনের প্রশংসা করতে থাকেন। তার নামে ও ছবিসহ নারায়ণগঞ্জে আনাচে কানাচে লাগানো হয় ব্যানার, পোষ্টার, ফেস্টুন। তাকে উপাধি দেয়া হয় বাংলার সিংহাম। তবে অনেকেই বলছেন এসপি হারুন নিজেই পোস্টার ছাপিয়ে রাতের আঁধারে পুলিশ দিয়ে পোষ্টার ব্যানারগুলো সাটিয়েছেন। তবে দিন যত পেরোতে থাকে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসতে থাকে। অভিযান ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ ২ থানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে যায়। বাকী ৫ থানার অপরাধীরা দিনের আলোতে চালিয়ে যায় তাদের অপরাধ কর্মকান্ড। ধীরে ধীরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও বিভিন্ন থানার কর্মকর্তারা সাধারন মানুষ ও ব্যবসায়ীদের হয়রানী শুরু করে। মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয় শামীম ওসমান হেরে গেছে। এসপি হারুনের কিছুই করতে পারে নি। আমরা কি করবো। টাকার বিনিময়ে সমস্যা সমাধান করতে থাকে সাধারন মানুষ। যাদের টাকা দেয়ার সামথ্য নেই তারা জেলখানায় চলে যায়। ধীরে ধীরে টাকার অঙ্ক বাড়তে থাকে। ১ পিছ মাদক নিয়ে ধরা পড়লেও ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা আদায় করা হয়। যারা সম্মান বাচাতে চায় তারা টাকা দিয়ে রফাদফা করে। যাদের টাকা নেই তারা মামলা নিয়ে হাজতে যায়। মানুষের মধ্যে পুলিশের কর্মকান্ড নিয়ে ঘৃণা তৈরী হতে থাকে। সর্বশেষ গত ৩ অক্টোবর পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদের বদলীর সংবাদে সাধারন মানুষের মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। এর আগে পারটেক্স গ্রুপের এমএ হাশেমের ছেলে শওকত আজিজ রাসেলের বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র মামলা দেয়া হয়। পরে তার গুলশানের বাসভবন থেকে তার স্ত্রী ও পুত্র ধরে এনে ৮ কোটি টাকা চাঁদা দাবী করেন এসপি হারুন। এ ঘটনার পর রাষ্ট্রপতির অনুমতিক্রমে তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়।