ফেনীতে ‘মাটি দস্যুরা’ বেপরোয়া

1

ফেনী প্রতিনিধি:
মাটি দস্যুদের দৌরাত্ম্যে ফেনীতে আশঙ্কাজনক হারে উর্বরতা হারাচ্ছে ফসলি জমি। এ দস্যুরা রাতের আঁধারে সাবাড় করে দিচ্ছে ফসলি জমির ওপরের অতিগুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি সমৃদ্ধ মাটি (টপ সয়েল)।
জমি মালিকদের ভুল বুঝিয়ে তারা এ সর্বনাশা কর্মে লিপ্ত। তারা কৃষককে বোঝাচ্ছে, এক বছরের মধ্যেই জমি আবার আগের মতো উর্বরা হয়ে যাবে। জেলা কৃষি বিভাগ বলছে, ওপরের মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ার ফলে জমির যে ক্ষতি হচ্ছে, তা অর্ধশত বছরেও পূরণ করা সম্ভব নয়।

এলাকাবাসী জানিয়েছেন, জেলার প্রতিটি উপজেলাতেই কৃষি জমির ‘টপ সয়েল’ কেটে চলছে রমরমা ব্যবসা। আর এসব মাটি কিনছে ইট ভাটাগুলো। প্রশাসন বলছে, অভিযান চলছে। কিন্তু বাস্তব চিত্র হলো, দিনে অভিযান চললেও মাটি ব্যবসায়ীরা বেছে নিচ্ছেন রাতের আঁধার।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, ফেনীর ৬টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কৃষি ‘টপ সয়েল’ কেটে ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে। এমন চিত্র জেলার বিভিন্ন উপজেলায় চোখে পড়ছে। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিকল্পিত মাটি কাটায় পরিবেশের বিপর্যয় ঘটছে, ফসলি জমি হারাচ্ছে উর্বরা শক্তি। জেলা প্রশাসনের জেএম শাখা সূত্রে জানা যায়, সদরের পাঁচগাছিয়া, শর্শদী, লেমুয়া, ফরহাদগনর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে মাটি কাটার অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। একই সূত্রে জানা যায়, দাগনভূঞা, ফুলগাজী, ছাগলনাইয়া, সোনাগাজী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মাটি কাটা বন্ধ করতে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়েছে।
ফসলি জমির উপরিভাগের গুরুত্ব প্রসঙ্গে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ফেনীর উপ-পরিচালক মো. মোশারফ হোসেন খান বলেন, কৃষিকাজের জন্য টপ সয়েল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি দীর্ঘদিন ধরে প্রাকৃতিকভাবে ও জৈব ব্যবস্থাপনার ফলে মাটির ওপরের ৬-৭ ইঞ্চি জমির প্রাণশক্তিতে পরিণত হয়। এ টপ সয়েল সরিয়ে নিয়ে মাটির গুনাবলী নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে যে মাটি জমিতে থাকে তা ফসল ফলানোর জন্য উপযুক্ত থাকে না।

ফেনী জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজজামান বলেন, কৃষি জমির মাটি কাটার ব্যাপারে কোনো ছাড় নেই। মাটি কাটা বন্ধে ইটভাটার মালিকদের নিয়ে আমরা সভা করেছি। বিভিন্ন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সতর্ক করা হয়েছে। প্রত্যেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে এ ব্যাপারে বলা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন স্থানীয় সকল জনপ্রতিনিধিদের এসব বিষয়ে অবহিত করছেন।