বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্য কুশীলবদের চিহ্নিতে কমিশন চান তথ্যমন্ত্রী

1

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচনে কমিশন গঠন প্রয়োজন বলে মন্তব্য করছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী সভার প্রথম দিনের সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা অনেক দিন ধরে বলে আসছিলাম বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে শুধুমাত্র যারা সামনে থেকে অংশগ্রহণ করেছে, তাদের মাধ্যমেই যে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে তা নয়। সদ্য স্বাধীন একটি দেশকে হত্যার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছিল। যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি, সেই দেশি-বিদেশি চক্রের ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পটভূমি রচনা করা হয়েছে।

“এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে বিরাট একটা ষড়যন্ত্র ছিল, সেই ষড়যন্ত্রের অনেক নট-নটী ছিল। সুতরাং এই হত্যাকাণ্ডের কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচন হওয়া প্রয়োজন। আর এর জন্য কমিশন গঠন প্রয়োজন। যদি সেটি আমরা আজকে না করি তাহলে আজ থেকে শতবর্ষ পরে যে ইতিহাস লেখা হবে, সেখানে কুশীলবদের নাম থাকবে না, কারা এই ষড়যন্ত্র করেছিল, তাদের সম্পর্কে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের প্রজন্ম জানতে পারবে না, পৃথিবীর ইতিহাস সেটি জানতে পারবে না।”

হাছান মাহমুদ বলেন, “তাই শত শত বছর পরের ইতিহাসে যাতে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের কুশীলবদের নাম লিপিবদ্ধ থাকে, ইতিহাসকে সত্য জানাতে হয়, সেজন্য এবং ইতিহাসের সত্য উদ্ঘাটনের স্বার্থে এবং ভবিষ্যতের জন্য ঠিক ইতিহাস লিপিবদ্ধ করার প্রয়োজনে আমি মনে করি, আপনারা মনে করেন, দেশের মানুষ মনে করে হত্যাকাণ্ডের কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচনের স্বার্থে একটি কমিশন করা এবং যারা জীবিত আছে, তাদেরকেও বিচারের আওতায় আনা। এটি না হলে ইতিহাসের কাঠগড়ায় হয়ত আমাদেরকে দাঁড় করানো হতে পারে, সেজন্যই এটি করা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।”

তথ্যমন্ত্রী বলেন, “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধুমাত্র একটি দেশ রচনা করে গেছেন, তা নয়। বঙ্গবন্ধুকে আমরা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বলি, কারণ বাঙালির হাজার হাজার বছর ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বেই বাঙালিরা স্বাধীনতা সংগ্রামের মাধ্যমে, স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে বাঙালিদের জন্য একটি জাতি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছে। বঙ্গবন্ধু এই জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। বঙ্গবন্ধু শুধু এই স্বাধীন রাষ্ট্র রচনা করে গেছেন তা নয়, বঙ্গবন্ধু সাড়ে তিন বছরের মাথায় একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে মাথা উঁচু করে দাঁড় করিয়ে সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখনই তাকে হত্যা করা হয়।

“বঙ্গবন্ধুকে যে বছর হত্যা করা হয়, সে বছর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল ৭.৪ শতাংশ এবং তখন বাংলাদেশ খাদ্যে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে ছিল, অনেক পরিসংখ্যান মতে সে বছর ১০ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত খাদ্য উৎপাদন হয়েছিল।”

তিনি বলেন, “সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত দেশ যাতে ভবিষ্যতে মাথা উঁচু করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারে, সেজন্য বঙ্গবন্ধু অনেক আইন করেছিলেন এবং সেসব আইনের ভিত্তিতেই আমরা পরবর্তীতে সমুদ্রসীমা, স্থলসীমা, তেল-গ্যাস ক্ষেত্রে নিজেদের অধিকারসহ অনেক কিছু অর্জন করেছি।”

ডিইউজে সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপুর সঞ্চালনায় প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি মোল্লা জালাল, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম, বিএফইউজের মহাসচিব শাবান মাহমুদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, সাংবাদিক নেতাদের মধ্যে আব্দুল জলিল ভূঁইয়া, ওমর ফারুক, কাজী রফিক, আজিজুল ইসলাম ভূ্ইঁয়া, রফিকুল ইসলাম রতন, সোহেল হায়দার চৌধুরী, আবদুল মজিদ প্রমুখ সভায় বক্তব্য দেন।