বিনামূল্যে নারীদের পৌঁছে দিতে রাতে অটো নিয়ে ঘুরে বেড়ান তিনি!

2

রাত তখন ১২টা ছুঁইছুঁই। দিল্লির রাস্তা তখন ফাঁকা। অফিসের কাজ মিটিয়ে রাস্তার সামনে এসে দাঁড়ালেন এক তরুণী। বাড়ি ফেরার জন্য অটোর অপেক্ষা করছিলেন।
ঠিক সেই সময় সামনে একটা অটো এসে দাঁড়ায়। যেন ঈশ্বর প্রেরিত দূত! সুরক্ষিতভাবে বাড়িতে পৌঁছে দেন ওই ব্যক্তি। বিনিময়ে কোনো টাকাও নিলেন না।
রাতের রাস্তায় যেখানে তরুণীকে একা পেয়ে পরিস্থিতির সুযোগ নিতে চান একদল মানুষ কিংবা রাতবিরেতে গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য প্রচুর ভাড়া হাঁকান চালকেরা। সেখানে দিল্লির রাস্তায় রাতে এমন একজন চালকও অটো নিয়ে ঘুরে বেড়ান, যার উদ্দেশ্য নারীদের সুরক্ষিত স্থানে পৌঁছে দেওয়া!
সেটাও কোনো টাকা ছাড়াই! সম্প্রতি এমন এক অটো চালকের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে নেহা দাস নামে এক তরুণীর। চালকের ছবি-সহ সেই অভিজ্ঞতা নিজের ফেসবুক ওয়ালে শেয়ারও করেন।
ফেসবুকে নেহা লিখেছেন, ‘অন্যান্য দিনের মতো গতকালও অফিস গিয়েছিলাম। ঠিক রাত ১২টার আগে কাজ মিটিয়ে বেরিয়ে পড়ি। বাইরে বেশ শীত শীত ভাব, রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা।
অফিসের বাইরে অটোর জন্য অপেক্ষা করছিলাম, ওই ভদ্রলোক আমার সামনে অটো নিয়ে এসে দাঁড়ান। ভাড়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, ম্যাডাম ম্যায় কুছ নেহি লেতা লড়কিঁয়সে ইতনি রাত কো। উনকো ঠিক সে ঘর পৌঁছনা জাদা জরুরি হ্যায়। (যার অর্থ, রাতে মেয়েদের কাছ থেকে আমি কোনো ভাড়া গ্রহণ করি না। তাদের ঠিকমতো বাড়ি পৌঁছে দেওয়াটাই জরুরি।)
ওই তরুণী বলেন, ওই ভদ্রলোকের কথা শুনে আমি কিছুক্ষণ থ হয়ে গিয়েছিলাম। আমার সন্দেহও হয়। ভুল লোকে ভরে গেছে দিল্লি, সেখানে এমন দয়ালু মানুষও রয়েছেন! খুব সুরক্ষিতভাবে আমাকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়াটাই তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমি তাকে বেশি টাকা দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তিনি নেননি। বাড়ি পৌঁছানোর পর তার একটা ছবি তুলতে চাই, সুন্দর একটা হাসিও দিয়েছেন তিনি।
এমন সৎ মানুষজনও যে আমাদের চারপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তার জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন নেহা।
নেহার পোস্ট থেকেই জানা গেছে ওই ব্যক্তির নাম প্রবীণ রঞ্জন। তিনি প্রতি রাতে অটো নিয়ে বেরিয়ে থাকেন। রাতে কোনো নারী গাড়ির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকলে তাঁকে বিনা পয়সায় বাড়ি পৌঁছে দেন তিনি। এটাই নাকি তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ।।