ভ্রাতৃত্বের বন্ধন : নেতৃত্বের চন্দন!

0

মোহাম্মদ আবদুল অদুদ : আপনি যদি আমাদের সমাজের আর দশটা সংগঠনের দিকে তাকান, দেখতে পাবেন উপদলীয় কোন্দল, গীবত, পারস্পরিক দোষারোপ, কে কাকে কিভাবে কত বেশি দুর্বল করতে পারে সেই ঠেলাঠেলিময় দৃশ্য। ভালো যে নেই, তাতো নয়। কালে-ভদ্রে, ঈদে-চান্দে কদাচিৎ দেখবেন দু-একটা।

আমি বলব আমাদের কথা। ১৪ মার্চ ২০২০ তারিখে বুড়িচং উপজেলা সমিতি, ঢাকার নির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন কতটা সুদৃঢ়- এই ছবিটিই তার প্রমাণ বহন করে। তাদের নিজেদের মধ্যে সংগঠন এর ব্যাপারে বোঝাপড়া (Understanding), সিনিয়রদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনে চমৎকারিত্ব, জুনিয়রদের প্রতি দায়িত্ববোধ, কর্মসূচি ও পরিকল্পনা প্রনয়ণের দক্ষতা্ এবং কাকে কোন দায়িত্ব দেবেন সেই দূরদর্শিতা যে কাউকে মুগ্ধ করবে।

দুর্লভ বা দুষ্প্রাপ্য কাষ্ঠ অর্থে চন্দন ব্যবহার করতে পারেন।আমাদের এলাকায় বলা হয়, চন্দন গাছের সাথে হাওড়া গাছ থাকলে, তাকে বলা হয় প্রলয়চন্দন। হিন্দুদের মরদেহ সৎকারে চন্দন বাধ্যতামূলক অনুষঙ্গ। বলা হয়ে থাকে “খসরু হয় না জনে জনে, চন্দন হয় না বনে বনে”। আবার চন্দ্র অর্থেও ব্যবহার করতে পারেন। এমনকি ছেলে একটি বড় কাজ করে ফেলতে পারলে বাবা আদর করে নন্দন, চন্দন শব্দদ্বয় ব্যবহার করে থাকেন, আপনি চাইলে সেই অর্থেও নিতে পারেন।

সভাপতি এমএ মতিন এমবিএ একজন মেধাবী ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, সংগঠনের জন্য যখন যেটা করা দরকার তার আর্থিক যোগান তিনি একাই দিতে পারেন, যদিও আমরা একটি আদর্শ সংগঠনের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী সবাই মিলে সংগঠনের ব্যয় নির্বাহ করি।তদুপরি বলব, তিনি বেশিরভাগ আর্থিক চাপটা তিনি একাই নেন। আর সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান শেলী বাংলাদেশ পুলিশের একজন চৌকস অফিসার (এসপি)। আবার ছাত্র জীবনে এই সংগঠনটির স্টুডেন্ট উইং ‘ছাত্রকল্যাণ সংসদে’ সভাপতির দায়িত্ব পালন করে এসেছেন অত্যন্ত দক্ষতার সাথে।

এবার যদি আপনি সোনায় সোহাগা বলেন, আমার কিইবা বলার আছে? আপনি মানিকজোড় বললেও আমার কিছু বলার নেই মহাশয়। নিন্দুকেরা যা বলার বলুক। নিন্দুককে আপনার কলিজা কেটে খাওয়ালেও বলবে, লবণ বোধ হয় একটু কম হয়েছে। একটি ভালো সংগঠনের প্রমাণবাহী নেতৃত্বের একটি উদাহরণ এখানে এজন্য দিলাম যে, দেশের অন্য দশটি সংগঠন যেন এই পুষ্প লেনদেনের দৃশ্যমান চিত্রটিকে দর্পণ হিসেবে গ্রহণ করে নিজেদের মধ্যে অনুশীলন করতে পারে।

আপনি দুজনের বন্ধন দেখেই আহ্লাদিত হওয়ার দরকার নেই। এখানে আমরা একটি টিম। টিম স্পিরিট বা সাংগঠনিক চেতনা, প্রতিটি কাজে গণতান্ত্রিক বোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা, পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস ও সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি, কাজের প্রতি আন্তরিকতা এবং সর্বোপরি দেশপ্রেম আমাদের শক্তি যোগায় এলাকার মানুষের জন্য কিছু করতে। উচ্চশিক্ষিত ও সাংগঠনিকভাবে দক্ষ এই টিমটির সাথে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করতে আগ্রহী যারা বুড়িচংয়ের মানুষ এবং ঢাকায় থাকেন তারা শীঘ্রই যোগাযোগ করুন।

এ লেখাটি ফরমায়েশী কিছু নয়। হৃদয়ের টানে, সংগঠনের প্রতি গভীর ভালবাসা থেকে এ লেখা উৎসারিত। করোনাভাইরাসের ভয়ে আমরা যখন নিজেকে নিয়ে চরম সঙ্কটে, তখন আমাদের প্রিয় সভাপতির নেতৃত্বে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একদল ভাই বুড়িচংয়ের হাজার মানুষের কাছে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেয়। আমরা যখন গভীর ঘুমে মগ্ন, তখন দেখি কোনো কোনো ভাই মানবসেবার পরিকল্পনা করতে করতে রাত্রি শেষ করে ফেলছে। মানুষ যখন চরম বস্তুবাদী, তখন আমাদের কেউ কেউ অন্য ভাইয়ের সমস্যা দূরীকরণে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করছে। মানুষ যখন আমাদের ক্ষতির চিন্তায় ব্যস্ত, আমরা তখন হয়তো তারই উপকারের নেশায় সক্রিয়। অর্থাৎ আমরা এমনই। কাজে সাধারণ হলেও সুবিবেচকদের চোখে নিশ্চয়ই ধরা পড়বে আমাদের অনেক অসাধারণত্ব।
লেখক : সাংবাদিক (ইনকিলাব) ও সদস্য, বুড়িচং উপজেলা সমিতি, ঢাকা