মণিরামপুরে অজানা অভিমানে মাদ্রাসা ছাত্রর গলায় ফাস দিয়ে আত্মহত্যা

3

রাশোদ আলী মণিরামপুর(যশোর)অফিস: মণিরামপুরের রাজগঞ্জ এলাকায় তারেক রহমান (১৫) নানের এক মাদ্রাসা ছাত্র আত্মহত্যা করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে রাজগঞ্জ এলাকার হরিহরনগর পশ্চিমপাড়া গ্রামে। তারেক রহমান ওই গ্রামের শহিদ মোড়লের ছেলে। মৃত তারেক স্থানীয় গাজীর দরগা হাফিজিয়া মাদ্রাসার ছাত্র।

তারেক রহমানের মা জানান, বড় ছেলে তারেক কে ওর বাবা ঘুম থেকে উঠিয়ে কোরআন শরীফ পড়তে বলে কাজে চলে যায়। তারেক কোরআন পড়ে ভাত খেয়ে মাঠে চলে যায় । কিছু সময় পর সে আবার বাড়িতে ফিরে এসেই আমাকে ঘরের ভিতর রেখে তালা মেরে দড়ি নিয়ে চলে যায়। এর আগে সে কয়েক বার দড়ি দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া চেষ্টা করেছে। ছেলের দড়ি নিয়ে যাওয়া দেখে আমার সন্দেহ হয়। আমি তখন চিৎকার দিয়ে তাকে থামানোর চেষ্টা করি । আসে পাশে লোকজন না থাকায় আমার চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

এরপর আমি আমার স্বামীকে ফোন করি। আমার স্বামী আমার কথা শুনে বাড়িতে এসে আমার ঘরের তালা খুলে দিলে আমরা দুই জনে মাঠের দিকে চলে যায়। অনেক খোঁজার পরে আমরা তারেক কে কাঁঠাল বাগানে একটি গাছের সাথে ঝুলতে দেখি। দ্রুত সেখানে যেয়ে ছেলেকে নিচে নামিয়ে আনি । কিন্তু তখন আমার ছেলে আর বেঁচে ছিল না। কিন্তু কি কারনে সে আত্মহত্যার পথ বেছে নিল তা চিন্তা করতে পারছিনা।

পুলিশ জানান, সকাল ১০টার সময় স্থানীয় হযরত আলীর কাঁঠাল বাগানে তারেক রহমানের ঝুলান্ত লাশ দেখা গিয়েছে। তারেক এর বাবা শহিদ ছেলের ঝুলান্ত লাশ নিজের হাতে মাটিতে নামিয়েছেন। স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে এবং ঘটনা স্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে বাবা মায়ের উপর অভিমান করে এই ঘটনা ঘটতে পারে।

রাজগঞ্জ তদন্ত কেন্দ্রে ইনচার্জ ইন্সপেক্টর তারিকুল ইসলাম লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়া স্বজনদের হাতে তুলে দেন। গলায় ফাঁসদিয়ে আত্মহত্যার বিষয়ে মনিরামপুর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।