মহান আল্লাহ তায়ালা যাকে রক্ষা করেন তার ক্ষতি কেউ করতে পারে না

1

মহান আল্লাহ পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু। তাঁর দয়ার কারনেই এই সুন্দর পৃথিবীতে আমাদের প্রিয় নবী হজরত মোহাম্মদ (সা.) এর আবির্ভাব ঘটেছিল। মুহাম্মাদ (সা) ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন আরাম ও সুখের জীবন। তিনি যেমন সাহসী ও অকুতোভয় ছিলেন, তেমনি ছিলেন কোমল মনের মানুষ। তাঁর ব্যাক্তিত্বের প্রভাবে ইসলামের বিস্তার হয়েছে।

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,আল্লাহর বিধানগুলো যথাযথভাবে মেনে চলবে, আল্লাহ তোমাকে হেফজত করবেন। আর তোমার কারো কাছে কিছু চাইতে হলে আল্লাহর কাছেই চাইবে। সাহায্য চাইতে হলে আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাইবে। জেনে রেখো! যদি সব সৃষ্টি একত্র হয়ে তোমার কোনো উপকার করতে চায়, তবে তারা আল্লাহর নির্ধারিত পরিমাণ ছাড়া কখনোই তোমার উপকার করতে পারবে না।

আর যদি সব সৃষ্টি একত্র হয়ে তোমার কোনো ক্ষ’তি করতে চায়, তবে তারা আল্লাহর নির্ধারিত পরিমাণ ছাড়া কখনোই তোমার ক্ষ’তি করতে পারবে না।(সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৫১৬) রাসুলুল্লাহ (সা.) জীবনের অন্তি’ম মুহূ’র্তে নামাজ সংরক্ষণের অসিয়ত করেন। নামাজ সংরক্ষণের অর্থ হলো, যথাসময়ে যথানিয়মে একা’গ্র চিত্তে নামাজ আদায় করা। নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করা। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা নামাজের প্রতি যত্নবান হও এবং বিশেষত মধ্যবর্তী নামাজের।’ (সুরা: বাকারা, আয়াত: ২৩৮)

কোরআনে কারিমে স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা নবী করিম (সা.)-এর জন্য দরূদ পাঠের তথা আল্লাহর দরবারে তার জন্য দোয়া করার আদেশ দিয়েছেন। এটা একদিকে যেমন আল্লাহর কাছে তার রাসূলের মর্যাদার প্রমাণ, অন্য দিকে মুমিন বান্দার রহমত ও বরকত লাভের অন্যতম উপায়। আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক মুসলমানকে দরুদের মতো সহজ ও মূল্যবান আমলটি বেশি বেশি করার তওফিক দান করুন। আমিন। এই জগতের সবকিছু ঘটে আল্লাহর অনুমতিতেই…

আল্লাহ্‌ মহান। এই সুন্দর দুনিয়ার মালিক একমাত্র আল্লাহ্‌। তিনিই আমাদের একমাত্র ভরসা। আল্লাহ বান্দার প্রতি ক্ষমাশীল। মানুষের জীবনে প্রতিটি মুহূর্তই আল্লাহ তাআলার নেয়ামতে পরিপূর্ণ। জগতের সবকিছু আল্লাহর অনুমতিতে ঘটে। আল্লাহ তায়ালা কাউকে পরীক্ষা করেন, কাউকে আজাব দেন। মহামারি তেমনই একটি বিষয়। করোনা ভা’ইরাস, এটিও একটি ম’হা’মা’রি বিষয়ে পরিণত হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে কেন আল্লাহ তায়ালা ম’হা’মা’রি দ্বারা শাস্তি দেন? কোনো জাতির মাঝে আল্লাহর অবাধ্যতা বেড়ে গেলে, অবাধে সবাই পা’পাচারে লিপ্ত হলে আল্লাহ নানানভাবে তাদের শাস্তি দেন।

অশ্লীলতা, জঘন্য পাপ, ভূমিকম্প, ঝড় তুফান, জলোচ্ছাস, মহামারি ইত্যাদি বেড়ে যাওয়ার কারণে এই আজাবগুলো আসে। অতীতেও পাপাচারের শাস্তি হিসেবে মহামারি প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। এমন ঘটনা দাউদ (আ.) এর সময়েই ঘটেছিল।

মহান আল্লাহ বলেন,তুমি কি তাদের দেখনি যারা মৃত্যুভয়ে হাজারে হাজারে স্বীয় আবাসভূমি ত্যাগ করেছিল। অতঃপর আল্লাহ তাদের বলেছিলেন, তোমাদের মৃত্যু হোক। তারপর আল্লাহ তাদের জীবিত করেন।

ইসলামের ভাষ্যমতে মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠতম সৃষ্টি মানুষ যখন আল্লাহকে ভুলে যায়, বেপরোয়া হয়ে ওঠে তখনই আল্লাহর গজব নেমে আসে শান্তির পৃথিবীতে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে ভূমিতে ও পানিতে সব জায়গায়, লোকজন কুকাজে অশান্তি ছড়ায়, যেরূপ কাজ তারা করে থাকে, আল্লাহ চান তার শাস্তি দিতে.. (সূরা: রূম, আয়াত: ৪১)।

বর্তমানে পাপ ও পতনের চরমে পৌঁছেও মানব সভ্যতা প্রতি মুহূর্তে নানান বিপর্যয়ের মুখোমুখী। এইডস, ডেঙ্গু, ইবোলা, নিপা, জিকা, কতো নাম-জাতের রোগেই না আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ।

নবীজি (সা.) বলেন, যখন কোনো জাতির মধ্যে প্রকাশ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে তখন সেখানে মহামারি আকারে প্লেগ রোগের প্রাদুর্ভাব হয়। তাছাড়া এমন সব ব্যাধির উদ্ভব হয়, যা আগের লোকদের মধ্যে কখনো দেখা যায়নি। (ইবনে মাজাহ, ৪০১৯)।

রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন, কেয়ামতের আগের ছয়টি নিদর্শন গণনা করে রাখো। আমার মৃত্যু, অতঃপর বায়তুল মুকাদ্দাস বিজয়, অতঃপর তোমাদের মধ্যে ঘটবে মহামারি, বকরির পালের মহামারির মতো, সম্পদের প্রাচুর্য, এমনকি এক ব্যক্তিকে একশ’ দিনার দেয়ার পরও সে অসন্তুষ্ট থাকবে।

অতঃপর এমন এক ফিতনা আসবে, যা আরবের প্রতিটি ঘরে প্রবেশ করবে। অতঃপর যুদ্ধবিরতির চুক্তি, যা তোমাদের ও বনি আসফার বা রোমকদের মধ্যে সম্পাদিত হবে। অতঃপর তারা বিশ্বাসঘাতকতা করবে এবং ৮০টি পতাকা উড়িয়ে তোমাদের বিপক্ষে আসবে; প্রতিটি পতাকার নিচে থাকবে ১২ হাজার সৈন্য। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩১৭৬)।

মহামারি প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, এটি আল্লাহর গ’জ’ব বা শাস্তি, বনি ইসরাঈলের এক গোষ্ঠীর ওপর এসেছিল, তার বাকি অংশই হচ্ছে ম’হা’মা’রি। অতএব, কোথাও মহামারি দেখা দিলে এবং সেখানে তোমরা অবস্থানরত থাকলে সে জায়গা থেকে চলে এসো না।

অন্যদিকে কোনো এলাকায় এটা দেখা দিলে এবং সেখানে তোমরা অবস্থান না করলে সে জায়গায় যেয়ো না। (তিরমিজি শরিফ, হাদিস : ১০৬৫)। তাই আমাদের উচিত, যেখানে এ ধরনের রোগের প্রকোপ দেখা দেবে, সেখানে যাতায়াত থেকে বিরত থাকা।

মহামারি আল্লাহর গজব হলেও এতে আ’ক্রান্ত মৃত ব্যক্তিকে পাপী-জাহান্নামি মনে করা যাবে না। রাসূল (সা.) এর ভাষায় মহামারিতে মা’রা যাওয়া ব্যক্তিও শহিদ। আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন, পাঁচ প্রকার মৃত শহিদ- মহামারিতে মৃত, পেটের পীড়ায় মৃত, পানিতে ডুবে মৃত, ধ্বংসস্তুপে চাপা পড়ে মৃত এবং যে আল্লাহর পথে শহিদ হল (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৮২৯)।