রাঙ্গুনিয়ায় ১৪ জন করোনা থেকে মুক্ত

2

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি:
করোনায় যোদ্ধারা কিভাবে করোনা মুক্ত হলেন সেই অভিজ্ঞতা জানিয়ে অন্য করোনা আক্রান্তদের পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁরা। চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ১৪ জনকে করোনা মুক্ত ঘোষনা করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

তাঁরা হলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কারিমা আক্তার, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র দে ও তাঁর স্ত্রী অনামিকা পাল, চিকিৎসা কর্মকর্তা (মেডিক্যাল অফিসার) নুরুল আলম,উপজেলা সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা ভাস্কর চৌধুরী, রাঙ্গুনিয়া থানার সহকারি উপ-পরিদর্শক(এএসআই) মো. নুরুল করিম চৌধুরী, ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ওবায়দুল আকবর, উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের নাজির (অফিস সহকারী) আনোয়ার আজম, পুলিশের নায়েক জাকির হোসেন, কনষ্টেবল নুর মোহাম্মদ, উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের অফিস সহকারী আবদুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা যুব উন্নয়ন কার্যালয়ের অফিস সহায়ক মো. খোরশেদ আলম,উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের কর্মচারি শেলী দাস ও কলেজ ছাত্র পংকজ দেবনাথ।
এর মধ্যে পুলিশের নায়েক জাকির হোসেন ও কনষ্টেবল নুর মোহাম্মদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন। অন্যরা হোম আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে সুস্থ হয়েছেন।গত শুক্রবার (১২ জুন)উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ও করোনা বিষয়ক ফোকাল পারসন মো. ফোরকান উদ্দিন বলেন, ” করোনা পরীক্ষার প্রতিবেদন আসার সাথে সাথে পজিটিভ ব্যক্তিদের তাৎক্ষনিকভাবে মুঠোফোনে খোঁজ খবর নেয়া হয়। মৃদু উপসর্গ থাকলে তাঁদের বাড়িতে আইসোলেশনে থাকতে বলা হয় এবং চিকিৎসা পরামর্শ দেয়া হয়। কারো উপসর্গ কিংবা শ্বাসকষ্ট থাকলে হাসপাতালের আইসোলেশনে নিয়ে আসা হয়।

করোনা আক্রান্তদের ফলোআপের জন্য বাড়িতে গিয়ে নমুনা নিয়ে আসেন ল্যাবের কর্মীরা। উপজেলায় ২ মে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এর মধ্যে ১৪ জনকে সুস্থ ঘোষনা করা হয়েছে। সুস্থ হওয়া সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে কাজে যোগ দিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কারিমা আক্তার। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন তিনি। জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনিসহ তাঁর কার্যালয়ের ৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। ৪ জনই সুস্থ হয়েছেন। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাথমিকভাবে দুইজনকে সুস্থ ঘোষনা করেন। তাঁর তেমন কোনো উপসর্গ না থাকলেও বাসায় থেকে তিনি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে সুস্থ হন। করোনা মুক্ত হয়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি ও দেশে আমিষের চাহিদা পূরনের জন্য মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র দে। জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি ও তাঁর স্ত্রীর একসাথে করোনা পজিটিভ আসে। দুজনে মনোবল শক্ত রেখে কর্মস্থলের বাসায় চিকিৎসকদের পরামর্শে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে সুস্থ হয়েছেন।

তিনি এখন নিয়মিত মাঠে যাচ্ছেন, অফিসের কাজ করছেন। করোনা আক্রান্ত কারো প্রয়োজন হলে তিনি প্লাজমা দান করবেন জানিয়েছেন। চিকিৎসকদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা (মেডিক্যাল অফিসার) মো. নুরুল আলম। তাঁর বাড়ি রাঙ্গুনিয়া। তিনিও তাঁর কর্মস্থলে যোগ দিয়ে চিকিৎসা সেবা শুরু করেছেন। পুলিশ কর্মকর্তা মো. নুরুল করিম চৌধুরীও রাঙ্গুনিয়া থানায় কাজে যোগ দেন। পুলিশের নায়েক জাকির হোসেন ও কনষ্টেবল নুর মোহাম্মদ সুস্থ হয়ে পোমরা ইউনিয়নে শেখ হাসিনা পানি শোধনাগার প্রকল্পে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, করোনা মুক্ত হয়ে ভূমি কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও নিয়মিত কাজ করছেন। কাজে যোগ দেয়ার অপেক্ষায় উপজেলা সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা ভাস্কর চৌধুরী ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কার্যালয়ের অফিস সহায়ক মো. খোরশেদ আলম।


Attachments area