সরকার করোনা অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছে: তথ্যমন্ত্রী

2

দেশে করোনা নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে যতটুকু সম্ভব করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়েছে। সেটিকে অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করতে আমরা সক্ষম হয়েছি। শুরুতে যেভাবে আশঙ্কা করা হয়েছিল, করোনাভাইরাসে হাজারো মানুষ মারা যাবে, রাস্তায় মানুষের লাশ পড়ে থাকবে, হাসপাতালে শয্যা পাওয়া যাবে না—এ ধরনের অনেক আশঙ্কার কথা বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন। কথায় কথায় যাঁরা সরকারের সমালোচনা করেন, তাঁরাও বলেছিলেন। কিন্তু সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও স্রষ্টার কৃপায় সেই পরিস্থিতি হয়নি।’

আজ সোমবার চট্টগ্রাম মহানগরীর ফয়’স লেক এলাকার বেসরকারি ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে করোনা ইউনিট উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্য তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রামের হাসপাতালে করোনা চিকিৎসায় যে পরিমাণ শয্যা আছে, তার অর্ধেকের বেশি খালি আছে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘করোনায় আমাদের মৃত্যুহার ইউরোপের চেয়ে তো বটেই, এমনকি ভারত-পাকিস্তানের চেয়েও কম রাখতে সক্ষম হয়েছি। যেখানে ভারত ও পাকিস্তানে প্রায় ২ শতাংশ মৃত্যুহার, সেখানে আমাদের দেশে ১ দশমিক ২ থেকে ৩ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করছে। অর্থাৎ আমরা অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে করোনা আরও নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হব আমরা।’

তবে অনেক দেশে করোনা সংক্রমণ কমে যাওয়ার পর দ্বিতীয় দফা সংক্রমণের শিকার হচ্ছে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নিউজিল্যন্ডে করোনা শূন্য হয়ে যাওয়ার পর আবার সংক্রমণ শুরু হয়েছে। উহানে, বেইজিংয়ে করোনা শূন্য হওয়ার পর আবার দেখা দিয়েছে। সুতরাং এ নিয়ে স্বস্তির জায়গায় যাওয়া ঠিক হবে না বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি।’

চট্টগ্রামে ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল প্রতিষ্ঠাতাদের ধন্যবাদ জানিয়ে চট্টগ্রামের সন্তান হাছান মাহমুদ বলেন, ‘চিকিৎসা সরঞ্জামে সমৃদ্ধ ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল। হৃদরোগের চিকিৎসায় এ রকম বিশেষায়িত হাসপাতাল দেশে আর একটিও নেই। ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল করোনা ইউনিট চালু করায় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই। করোনা চিকিৎসায় চট্টগ্রামের অবস্থা এখন ভালো।’

বিএনপি-জামায়াতের আশ্রয়-প্রশ্রয় জঙ্গি নির্মূলে বড় বাধা

বিএনপি-জামায়াতের আশ্রয়-প্রশ্রয় জঙ্গিবাদ নির্মূলে বড় বাধা বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০০৫ সালের এই দিনে দেশের ৬৩ জেলায় একযোগে ৫০০–এর বেশি জায়গায় বোমা হামলা চালানো হয়েছিল। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি-জামায়াত সরকার তখন ক্ষমতায় ছিল। তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়েই জঙ্গিরা শাখা-প্রশাখা বিস্তার ও শক্তি সঞ্চয় করেছিল। সেই শক্তি প্রদর্শন করার লক্ষ্যেই ৬৩ জেলায় একযোগে বোমা হামলা চালিয়েছিল জঙ্গিরা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার জঙ্গি দমনে অনেক দেশের চেয়ে অনেক বেশি সফলতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা জঙ্গি নির্মূল সম্পূর্ণ করতে পেরেছি, সেই দাবি আমরা করব না। তবে জঙ্গি দমন করা সম্ভবপর হয়েছে। জঙ্গি নির্মূল করাও সম্ভব হতো, যদি বিএনপি-জামায়াত তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় না দিত।’

জঙ্গিদের প্রতি বিএনপি-জামায়াতের সেই আশ্রয়-প্রশ্রয় এখনো আছে অভিযোগ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ৫০০ জায়গায় একযোগে যারা বোমা হামলা চালিয়েছিল, তাদের দোসররা বিএনপির জোটের মধ্যে আছে। যারা স্লোগান দেয় ‘আমরা সবাই তালেবান, বাংলাদেশ হবে আফগান’, তারা কিন্তু ২২–দলীয় ঐক্যজোটের মধ্যেই আছে।

রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় না থাকলে জঙ্গি নির্মূল সম্পূর্ণ করা সম্ভব হতো মন্তব্য করে তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, যখন কোনো জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করা হতো, তখন খালেদা জিয়া এমন কথাও বলেছিলেন, ‘কিছু লোককে ধরে এনে আটকে রাখা হয়, যখন চুল-দাড়ি লম্বা হয়, তখন তাদের জঙ্গি বলা হয়’—এই ধরনের দায়িত্বহীন কথাও তিনি বলেছেন। এভাবে বিএনপি-জামায়াত ও তাদের দোসররা জঙ্গিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে।

ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের বোর্ড চেয়ারম্যান রবিউল হোসেন, দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক প্রমুখ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।