কোটি টাকার বানিজ্য নিয়ে মিতালী মার্কের্টে উত্তেজনা

4

সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন মিতালী মার্কেটের কর্তৃত্ব দখলে নিতে হামলা করেছে পূর্বে মার্কেটটির কমিটিতে থাকা কয়েকজনের সমর্থক মার্কেটের অফিসের তালা ভেঙে নগদ অর্থ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ দায়িত্বে থাকা বর্তমান কমিটির। এ ঘটনায় উল্লেখিত তিনজন সহ অজ্ঞাত ৪০/৫০ জনের নামে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে বর্তমান কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক খোকন আহমেদ। তবে প্রতি পক্ষের জয়নাল আবেদীন ফারুক, জামাল মিয়া দাবী করেছেন তাদের দুইজনকে কুপিয়ে আহত করেছে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা।

মার্কেটের ব্যবসায়ীরা জানায়, মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে পুলিশের উপস্থিতিতেই লাঠি-সোঠা এবং পাইপ হাতে মার্কেটে হামলা করা হয়। এর আগে মার্কেট কমিটির তালাবদ্ধ অফিস ভাঙচুর করে প্রায় ১ লক্ষ ৬০ হাজার নগদ টাকা হামলাকারীরা নিয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, পুলিশের সামনেই হামলাকারীরা হাতে লাঠি নিয়ে মহড়া দিচ্ছে। পরে হামলাকারীরা মার্কেটের ভেতরে বন্ধ থাকা অফিস ও দোকানের সাটার ভাংচুর করতে থাকে। এসময় পুলিশের ধাওয়ায় হামলাকারীরা সরে যায়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দুপুরে মার্কেটে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

এ বিষয়ে মার্কেটের দোকানদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ বলেন, জয়নাল আবেদীন ফারুক, জামান মিয়া এবং নাজিম উদ্দিন নাজু বাহিনীর সমর্থকরা আমাদের কমিটির কার্যালয়ে এসে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। সদ্য আমাদের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। কমিটির দায়িত্ব দখলে নিতেই মার্কেটে হঠাৎ আক্রমণ করা হয়েছে। খবর পেয়ে আমরা পুলিশের কাছে অভিযোগ দিয়েছি। তবে বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা অনুযায়ী নতুন কমিটি নির্বাচনের আগ পর্যন্ত সদ্য মেয়াদ শেষ হওয়া কমিটির দায়িত্ব বহাল থাকবে জানান তিনি।

মার্কেটে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে জয়নাল আবেদীন ফারুক ও জামান মিয়া জানান, শ্রম অধিদপ্তর নারায়ণগঞ্জ জেলা থেকে সাইদুল ইসলামকে আহবায়ক, আবুল হাসানকে সদস্য সচিব, সিরাজুল ইসলাম, আবুল হোসেন, ও আব্দুর রহিমকে সদস্য করে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির গঠন করা হয়েছে। আমাদের কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য আমরা দায়িত্ব পালন করতে মার্কেটে যাই। আমরা মার্কেটে হামলা করার জন্য কাউকে পাঠাইনি এবং সেখানে আমার কোন লোকও যায়নি। উল্টো সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মিয়ার লোকজন আমার ভাগিনা কলেজ ছাত্র সুজন মিয়া ও মার্কেট পরিচালনা কমিটির সাবেক দপ্তর সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ নামে দুইজনকে আমার বাসার সামনে এসে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে। আহতদের বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তারা বলেন, আমাদেরকে হয়রানি করার জন্য আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অনুসন্ধান চালিয়ে জানা যায়, মিতালি মার্কেট কমিটি নিয়ে অবৈর্ধভাবে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্যই দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবত হামলা-মামলা সহ বিভিন্ন রকম সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন দুই পক্ষই। এতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসীরা। প্রশাসনের নজরদারী না বাড়ালে যে কোন সময়ে বড় ধরনের ঘটনা পারে বলে মনে করেন অভিজ্ঞমহল।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (অপারেশন) রুবেল হাওলাদার জানান, মার্কেটের কর্তৃত্ব নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখায় পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। এ বিষয়ে অভিযোগ নেওয়া হয়েছে, তদন্ত করে ব্যবস্থা