সুন্দরগঞ্জে ডিলারকে হয়রাণির অভিযোগ

2

মোঃ মিজানুর রহমান, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর ডিলার জাহিদুল ইসলামকে নানাভাবে হয়রাণির অভিযোগ রয়েছে। বুধবার দুপুরে সুন্দরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাব’র অস্থায়ী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ নিয়ে অভিযোগ উত্থাপন করে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ডিলার জাহিদুল ইসলাম ও তার ভাতিজা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুন-উর-রশিদ। এসময় তারা অভিযোগ করেন হারুন-উর-রশিদকে মারাপিটের ঘটনায় জিআর ১৫৬/২০১৯ নম্বর মামলার জের ধরে প্রভাবশালী আসামীরা ব্যাপক জালিয়াতির মাধ্যমে পরিকল্পিত ও ষড়যন্ত্রমূলক তথাকথিত অভিযোগ, সুষ্ঠু তদন্ত ও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই ডিলারকে হয়রাণি করছেন। জাহিদুল ইসলাম নিজেকে সম্পূর্ণরূপে নির্দোষ দাবী করে জানান, ২০১৬ সাল থেকে উক্ত ইউনিয়নের ৬,৭,৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের উপকারভোগীদের মাঝে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর চাল প্রদান করে আসছেন। কোন কু-চক্রী ব্যক্তি বা মহল ৮৩৬, ১০৮২, ৮৯৩ ও ১০৬২ নম্বর কার্ডধারী যথাক্রমে আঃ রাজ্জাক, ছক্কু মিয়া, আঃ করিম মিয়া ও আঃ মালেক মিয়াসহ ৫ জনের কার্ড নম্বর, নাম-ঠিকানা, সহি-স্বাক্ষরসহ ব্যপক জালিয়াতি করে অভিযোগ করলে উক্ত কার্ডধারীগণের পক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে আবেদন করে তা প্রত্যাহারের দাবী জানান সংশ্লিষ্টরা। এরপরও কোন রহস্যজনক ও অদৃশ্য কারণে ডিলার জাহিদুল ইসলামের বদলে উপকারভোগীদের মাঝে ইউপি সচিব সুলতান আহমেদ সরকার খাদ্যশস্য প্রদান করছেন। এ বিষয়ে ডিলার জাহিদুল ইসলাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে আবেদন করে তাকে বাদ রাখার বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ প্রকৃত দোষীদের শাস্তির দাবীতে আবেদন করেছেন। তিনি জানান, ইউপি সচিব সুলতান মাহমুদ মৃত ব্যক্তি ও ভিজিডি কার্ডধারীকেও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর চাল প্্রদান করছেন। এসময় আঃ রাজ্জাক, আনজিনা বেগম, আমান মিয়া, আছফুন বেগম উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে ডিলার জাহিদুল ইসলাম জানান, ইউনিয়নের ৬,৭,৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ৬২৫ জন কার্ডধারীর মধ্যে ৫৮৪ নম্বর কার্ডধারী হলেন ইউনিয়নের একাধিকবারের সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান চেয়ারম্যানের বাবা নেছাব উদ্দিন সরকার। ডিলার জাহিদুল ইসলাম কোন প্রকার তালিকা প্রণয়ন করেননি বা তালিকা প্রণয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। ২০১৭ সালের ১৪ই মার্চ অত্র ইউপি’র নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও মেম্বরগণ নতুন করে ১’শ ২৫ জনের নাম অন্তুর্ভূক্ত করলে পূর্ব ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বরগণের প্রণীত তালিকায় ৫’শ জনসহ ৬’শ ২৫ জন কার্ডধারীর পরিসংখ্যান বজায় থাকলেও পূর্বের কিছু নাম রদবদল করেন বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বরগণ। চেয়ারম্যান ও মেম্বরগণের ঘনিষ্ঠ স্বজনরা নামে-বেনামে এ সুবিধা ভোগ করে আসায় তাদের বিরুদ্ধে ডিলার জাহিদুল ইসলাম কিছু বলার সাহস পান না। বহ্মপুত্র নদ ও তিস্তা নদী বিধৌত এ ইউনিনের ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ মানুষের আবাসস্থল স্থানান্তরিত হওয়ায় এসব কার্ডধারীদের মধ্যে অনেকেই ডিলারের অজানা-অচেনা। তবুও সন্দেহজনক কোন কার্ড আটকিয়ে দিলে ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বরগণ সুপারিশ করে এমনকি, অবৈধপন্থায় চাল নিতে আসা ব্যক্তিদেরকে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর চাল প্রদানে বাধ্য করেন। ইউপি সচিব সুলতান আহমেদ সরকার ৫৭৫ নং কার্ডধারী মৃত মন্জু মিয়া ও ১১৩ নং কার্ডধারী আলম মিয়ার স্ত্রী রাশেদা বেগম ভিজিডি কার্ডধারী হলেও তাদেরকে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর চাল প্রদান করা অব্যাহত রেখেছেন বলে জানান।
ডিলার জাহিদুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে দাবী তোলেন তার বিরুদ্ধে আনীত কথিত অভিযোগ মিথ্যা, ষড়যন্ত্র ও জালিয়াতিমূলক হিসেবে বিবেচিত হলেও তাকে নানান ভয়-ভীতি ও হুমকী ধামকী প্রদর্শণ করে নিজেকে “ফাটাকেষ্ট সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে শেখ সাইফুল ইসলাম নামে এক যুবক ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। একপর্যায়ে দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার গাইবান্ধার জেলা প্রতিনিধি শাহাবুবুল শাহীন (তোতা), দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন’র গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি গৌতমাশীষ গুহ সরকার, এসএ টিভি’র গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি কায়ছার প্লাবন ও সুন্দরগঞ্জ রিপোর্টার্স ক্লাব’র সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিকসহ প্রশাসনের একাধিক স্তরের কর্মকর্তার নাম উল্লেখ পূর্বক বিভিন্নভাবে ৮৫ হাজার টাকা হাতানোর ঘটনায় স্বাক্ষর জালিয়াতিমূলক অভিযোগের ক্ষেত্রে শেখ সাইফুল ইসলামের প্রতিও ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান।