সুন্দরগঞ্জে ডিলার কর্তৃক ১’শ নামের চাল আত্মসাৎ

1

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর ডিলার কর্তৃক সাড়ে ৩ বছর ধরে নিজ পরিবারের ৩০ জনের নামে ৩০টিসহ ১’শ জনের নামের চাল আত্মসাৎ করা হয়েছে মর্মে অভিযোগ রয়েছে।

জানা যায়, উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর ডিলার জাহিদুল ইসলাম তার ইচ্ছানুযায়ী নিজ পরিবারের ৩০টিসহ ব্যাপক অনিয়মের মাধ্যমে উক্ত খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর সুবিধা প্রদানের তালিকায় অর্ন্তভূক্ত ১’শ জনের কার্ড নিজ আওতায় রেখে ঐসব নামের বিপরীতে সমুদয় চাল আত্মসাৎ করে আসছেন। এতে একই পরিবারের স্বামী-স্ত্রী ও ভিজিডির সুবিধাভোগীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে মর্মে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে অভিযোগ দায়ের করেন।

২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ১৬ দফায় ডিলার জাহিদুল ইসলামের পরিবারে ৩০ জনের নামে প্রতি দফায় ১০ টাকা দরে ৩০ কেজি করে চাল প্রদান দেখানো হয়েছে। এছাড়া, পার্শ্ববর্তী শ্রীপুর ইউনিয়নের বোয়ালী গ্রামের শাহিনুর বেগম নামে ডিলার জাহিদুলের জেঠাত বোনকেও এ সুবিধা প্রদানের হিসেব দেখিয়েছেন। অভিযোগকারী কার্ডধারী ছবেদ আলী, ছক্কু মিয়া, আব্দুর রশিদ জানান, শুরু থেকে তারা এ কর্মসূচীর চাল পাননি।

চলতি বছর এপ্রিল মাসে প্রথম বারের মত ৩০ কেজি করে চাল উত্তোলণ করেছেন প্রত্যেকেই। এতে তারা জানতে পারেন যে, তাদের নামে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর সুবিধা প্রাপ্তির তালিকায় রয়েছেন। ডিলার জাহিদুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। তবে তার অজান্তে পরিবারের সদস্যরা কার্ড পেয়ে থাকতে পারেন বলেও জানান তিনি।

যোগসাজশের অভিযোগ অস্বীকার করে ট্যাগ অফিসার ও ভাটি কাপাসিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, আমি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেছি। অনিয়মের সাথে আমার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। সংশ্লিষ্ট ইউপি সচিব সুলতান আহম্মেদ বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কছিম বাজার উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এপ্রিল মাসের চাল দেয়া শুরু করেছি।

স্বামী ও স্ত্রীর নামে ৬টির মধ্যে ৩ জনকে এ চাল দিতে হয়েছে। এছাড়া ভিজিডির সুবিধাভোগীদের নামে ১৮টি কার্ড পেয়েছি। তাই তাদেরকে চাল দেয়া হয়নি। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আলাউদ্দিন বসুনিয়া বলেন, আমিসহ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এ অভিযোগে তদন্ত পূর্বক উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে প্রতিবেদন দাখিল করেছি। উর্ধতন কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কাজী লুৎফুল হাসান তদন্ত প্রতিবেদন প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে মর্মে প্রতিবেদন পেয়েছি। প্রতিবেদন পাওয়া মানে সিদ্ধান্ত দেয়া। কিন্তু, এরূপ সিদ্ধান্ত এখনো দেয়া হয়নি। তবে, সুবিধাভোগী দুঃস্থ মানুষদে কে সুবিধা প্রদানের জন্য আপতত সংশ্লিষ্ট (কাপাসিয়া) ইউপি সচিবকে দিয়ে কর্মসূচীর কার্যক্রম (চাল প্রদান) চালুর ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা হয়েছে।