সোনারগাঁয়ে সরকারি নির্দেশ অমান্য করে জনসমাগম,স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই চলছে হাট

2

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে বারবার জনসমাগম থেকে দুরে থাকার কথা বলা হলেও সরকারি এই নির্দেশনা অমান্য করে আজ রোববার নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার কাইকারটেকে বসেছে বিশাল হাট। করোনা প্রতিরোধের নিয়ম না জানা গ্রাম থেকে আসা এসব মানুষের জমায়েতে ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, এ হাটটি বৃটিশ সময়কাল থেকে বসে আসছে। ওই অঞ্চলের কয়েক গ্রামের মধ্যে এটি সবচেয়ে বড় হাট । সেখানে গরু-ছাগল, হাস-মুরগীসহ বিভিন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের কেনা-বেঁচা হয়। প্রতি সপ্তাহে এখানে রোববার বৃহৎ ওই হাট বসে। আজ রোববার সোনারগাঁও উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শতশত ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম ঘটে এ হাটে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে হাট বসিয়ে প্রতি দোকান থেকে খাজনা আদায় করে যাচ্ছে ইজারাদার কর্তৃপক্ষ। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে করোনা কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নিত্য প্রয়োজনীয় পন্যের দাম বৃদ্ধি করে বিক্রি করছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিশাল হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়, ধুলো-ময়লা ও গাদাগাদি অবস্থায় চলছে বেচাকেনা। হাঁচি-কাশি, থুতু ফেলা, হাত মেলানা, জড়িয়েধরাসহ বন্ধ নেই সংস্পর্শে আসার কোন কিছুই। এতে ঝুঁকি বাড়াচ্ছে করোনার সংক্রমণের।

স্থানীয় এলাকার মাসুদ বলেন,করোনা ভাইরাস আতংকে যখন সারা পৃথিবীর মানুষ দিশেহারা যেখানে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি করোনা প্রতিরোধে বিভিন্ন সচেতনতা মুলক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন সহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের সচেতন জনগণ। ঠিক সেই মুহুর্তে সরকারী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কাইকাটেকের হাট কর্তৃপক্ষ তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে।

সরকারী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কাইকাটেকের হাট কর্তৃপক্ষ তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে, বাদর(৫০) পিতা হামিদ ডাক্তার, ভাই ফারুক,আরেক ভাই রোমন,রফিকুল ইসলাম,সোহেল,দেলোন,সামেদ মেম্বার,হাবিবুল্লাহ মাস্টার,হযরত আলী,ওসমান,নজরুল ইসলাম,কামরুল ইসলাম হাট বসেছে। তারা প্রতিটি দোকান থেকে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

বিভিন্ন ক্রেতা ও বিক্রেতারা বলেন, আমরা গরীব মানুষ।আমরা আসছি পেটের দায়ে। আমাদের কিস্তি আছে। হাটে না আসলে আমাদের আয় হবে না।
আর উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে কোন বন্ধের নার্টিশ পাইনি। নোর্টিশ পেলে অবশ্যই হাট বন্ধ করে দিতাম। হাটে আগতদের সচেতন করার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের প্রয়োজন মেটানো ও বাজার ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে হাট খোলা হয়েছে বলে দাবি ইজারাদারদের।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম বলেন, হাট-বাজার বসানোর খবর জানার পর হাটের ইজারাদাকে বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়। তারপরও ওই নির্দেশ না মেনে থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সোনারগাঁও থানার (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, এ বিষয় উপজেলা নিবার্হী অফিসারকে বিষয়টা জানান।