স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষনের অভিযোগ কবিরাজের বিরুদ্ধে

0

শেরপুর জেলার শ্রীর্বদি উপজেলাই জিনের আসনে বসানো কথা বলে ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্রী (১০)কে ধর্ষনের অভিযোগ উঠেছে কবিরাজ শাহ আলমের বিরুদ্ধে। শেরপুর জেলার শ্রীবরদী থানার খড়িয়া কাজীরচর এলাকার কবিরাজ শাহজাহান আলীর বাড়িতে এ ধর্ষনের ঘটনা ঘটে। ধর্ষিতা ১০ বছরের শিশুটির বাবার বাড়ী শ্রীবরদী উপজেলার চিথলিয়া গ্রামে। বাবা দ্বিতীয় বিবাহ করে ওই বউয়ের সাথে থাকায়, শিশুটি শ্রীবরদী উপজেলার পশ্চিম কাজিরচর গ্রামের নানার বাড়ীতে থাকতো।

তার মা ঢাকায় একটি গার্মেন্টসে চাকুরী করে। শিশুটি পশ্চিম কাজিরচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪র্থ শ্রেণীতে লেখা পড়া করে আসছিল। সম্প্রতি সে অসুস্থ হয়ে পড়লে তিন ভন্ড কবিরাজ শাহ আলম, তার ভাই শাহজাহান আলী ও তাদের সহযোগী আব্দুল মজিদের সহযোগিতায় ২৭ জুলাই শাহজাহান কবিরাজের বাড়ীতে জিনের আসার বসায় এবং তাকে নেশা জাতীয় ওষুধ সেবন করিয়ে ধর্ষন করে। এভাবে চিকিৎসার নামে মেয়েটিকে একাধিক দিন ওষুধ সেবন করিয়ে নির্যাতন করে। অসহায় মেয়েটি আরো অসুস্থ হয়ে পড়লে তার দাদী শেরপুর শহরের উত্তর গৌরীপুরের কথিত শাহ আলম কবিরাজের বাড়ীর উদ্দেশ্যে নিয়ে আসার পথে খোয়ারপাড় শাপলা চত্বর মোড়ে মেয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়লে ঘটনাটি জানজানি হয়ে যায়।

এসময় স্থানীয় টহল পুলিশের সহায়তায় শাহ আলম কবিরাজকে আটক করার চেষ্টা করলে দৌড়ে সে পালিয়ে যায়। পরে গুরতর অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে শেরপুর জেলা হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। পরে অসহায় মেয়েটির খবর পায় শেরপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো: মেরাজ উদ্দিন। তিনি তার চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব শেরপুরের সিভিল সার্জন ডা: একেএম আনওয়ারোর রউফ ও আর এমও ডা: খায়রুল কবীর সুমনকে নেয়ার অনুরোধ করলে তারা তার চিকিৎসার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এ বিষয়ে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো: বিল্লাল হোসেন সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি একটি এজাহার দেয়ার জন্য বলেন। পরে আমাদের আইন শেরপুর জেলা শাখার চেয়ারম্যান নুরে আলম চঞ্চল ও সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হোসাইনের সাথে যোগাযোগ করলে তারা এ ঘটনার বিচারের জন্য মামলা করার ব্যবস্থা করে দেন। শিশুটির দাদী বাদী হয়ে শ্রীবরদী থানায় মামলা দেয়া হলে পুলিশ দ্রুতই মামলা গ্রহণ করে কবিরাজ শাহজাহান আলীকে গ্রেফতার করে।

এ ঘটনায় ধর্ষিতার দাদী বলেন, তার নাতি খড়িয়া কাজীরচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালেয়র ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্রী। গত ২০/২২দিন পূর্বে আমার নাতনী শারীরিক অসুস্থতাবোধ করিলে শাহজাহান এবং আব্দুল মজিদের পরামর্শ ক্রমে কবিরাজ শাহ আলমের কাছে চিকিৎসা করাইতে নিয়া যাই । ২৭জুলাই রাত আনুমানিক ১০টার দিকে কবিরাজ শাহআলম সাথী আক্তারকে চিকিৎসা করলে ভাল হইয়া যাবে বলে কবিরাজ শাহআলম জিনের আসর বসায় তার ভাই শাহজাহান আলীর বাড়িতে। চিকিৎসার নাম করিয়া কবিরাজ শাহআলম বিভিন্ন ক্ষতিকারক ঔষধ সেবন করায় নাতনীকে ।

একপর্যায়ে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে পড়লে কবিরাজ শাহ আলম তার ভাই শাহজাহান আলীর বসত ঘরে নিয়া গিয়া দরজা লাগাইয়া দেয় এবং বাহিরে তার ভাই শাহজাহান দাড়িয়ে থেকে পাহাড়া দেয় এবং বলে যে ভিতরে চিকিৎসা চলতেছে। কবিরাজ শাহআলম ঘরের দরজা বন্ধ করে অচেতন অবস্থায় ধর্ষন করে। এরপর থেকে কবিরাজ শাহআলম চিকিৎসার নাম করিয়া ওই শিশুকে বিভিন্ন অচেতন মূলক ঔষধ খাওয়ায়া একাধিকবার ধর্ষন করে। একপর্যায়ে শিশুটি শারীরিক ও মানসিক ভাবে বেশি অসুস্থ হইয়া পড়লে তার দাদীকে ঘটনা জানায় এবং শেরপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করান।

এঘটনায় শেরপুর সদর হাসপাতালের ডাঃ জান্নাতুল ফেরদৌস লোপা বলেন, শিশুটি মানসিকভাবে খুবই অসুস্থ হইয়া পড়েছে তাকে বিভিন্ন অচেতনমূলক ঔষধ খাওয়ানোর কারনে মাথায় বড় সমস্যা হচ্ছে। তার তলপেটে বেশি ব্যাথার কারনে ওঠে দাড়াতে পারছেনা। ডাক্তোরদের পরামর্শক্রমে বিভিন্ন টেস্ট করানো হয়েছে রিপোট পাওয়া পর জানা যাবে শিশুটিকে ধর্ষন করা হয়েছে কিনা।

এ ব্যাপারে শ্রীবরদী থানার তদন্ত ওসি বন্দে আলী ঘটনা সততা স্বীকার করে তিনি বলেন কবিরাজ শাহআলম সহ কয়েকজনের নামে ধর্ষনের অভিযোগ করে মামলা করা হয়েছে মামলা করার পরপরই ২নং আসামী শাহজাহানকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে ।

এদিকে কবিরাজ শাহ আলম ইতিপূর্বেও আরো একাধিক অপকর্ম করেছে। গত বছর উত্তর গৌরীপরে মহল্লার আজেদা বেগমকে চিকিৎসার নামে ক্ষতিকর নেশা জাতীয় ওষুদ খা্ওয়াইলে ২০/২৫দিন চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় মারা যায়। পরে স্থানীয় কতিপয় মাতব্বর মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এ হত্যাকান্ডটিকে স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে তড়িঘরি করে লাশ দাফন করে ফেলে। ফলে অসহায় এ পরিবারটি আজো এর বিচার পায়নি।